শিশুহত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সরকারি দলের লোকেরা জড়িত: জামায়াত নেতা তাহের
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনদিন অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, শিশুহত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে সরকারি দলের লোকজন জড়িত বলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
রোববার (৩১ মে) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চৌদ্দগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, 'দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। শিশুহত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এসব ঘটনার সঙ্গে সরকারি দলের লোকজন জড়িত বলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।'
তিনি বলেন, 'আমরা সংসদে বিষয়টি তুলে ধরব। পাশাপাশি সংসদের বাইরে যেহেতু সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ রয়েছে, তাই কীভাবে আরও কার্যকর ও সচেতন ভূমিকা পালন করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করব।'
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে 'ব্যর্থ সরকার' বলা যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, 'আমরা এত দ্রুত কোনো সরকারকে ব্যর্থ বলতে চাই না। তবে বর্তমান পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে মানুষের কাছে তাদের ব্যর্থতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তখন আমরা বলি বা না বলি, জনগণই তাদের ব্যর্থ সরকার হিসেবে মূল্যায়ন করবে। এটি দেশের জন্য মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।'
তিনি বিএনপি এবং সরকারপ্রধানের (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত এসব সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হোক। রাজনৈতিক বিরোধ নয়, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা ও উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
