ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অপসারণসহ ‘গ্রাহক ফোরামের’ ৫ দাবি, লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মুখে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছে 'সচেতন গ্রাহক ফোরাম'। সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবিগুলো তুলে ধরা হয়। দাবি আদায় না হলে আগামীতে লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত গ্রাহকেরা।
আন্দোলনকারী গ্রাহকদের ঘোষিত ৫ দফা দাবির প্রথমটি হলো—ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে অবিলম্বে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের অপসারণ। দ্বিতীয়ত, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনরায় ব্যাংকের দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে। তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য যোগ্য নতুন গভর্নর নিয়োগ অথবা বর্তমান গভর্নরের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, পূর্বে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইসলামী ব্যাংকের সামনে বা আশেপাশে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। এবং পঞ্চমত, এসব দাবি অনতিবিলম্বে পূরণ না হলে তীব্র ও লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
গ্রাহক প্রতিনিধিদের অভিযোগ, নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম সাবেক বিতর্কিত 'এস আলম গ্রুপের দোসর'। তাকে এই পদে বহাল রাখলে ব্যাংকে পুনরায় ব্যাপক লুটপাটের আশঙ্কা রয়েছে। মূলত সাধারণ গ্রাহকদের আমানত ও স্বার্থ রক্ষার্থেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সকালে এই ৫ দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন গ্রাহক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৫ জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও এর আশপাশে প্রায় ৩০০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাংকের প্রধান গেটের সামনে আরও ৫০ জন পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক অবস্থান নিয়েছেন।
