ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও আল কুদস বাহিনী গঠনের নেতৃত্বে ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়া: পানিসম্পদমন্ত্রী
ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে আল কুদস বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, 'ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট জিয়ার অসামান্য অবদান রয়েছে। এমনকি তার নেতৃত্বে আল কুদস বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল এবং তিনি এই কমিটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।'
শনিবার (৩০ মে) রাতে লক্ষ্মীপুর টাউন হল ও পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তার বক্তব্যে জিয়ার দূরদর্শী কূটনীতির কথা তুলে ধরে বলেন, 'দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার সংগঠন 'সার্ক' কেবল তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও দূরদর্শী চিন্তার ফসল। তার নেতৃত্বেই এই সংগঠনটি এই অঞ্চলে যাত্রা শুরু করেছিল।'
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পানিবণ্টন ও হিস্যা আদায়ের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, 'পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমাদের পানির হিস্যা আদায়ের পথ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার অবর্তমানে পরবর্তী অনেক সরকার সেভাবে উদ্যোগ নিতে পারেনি। জিয়াউর রহমান সবসময় দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে চিন্তা করতেন।'
স্বাধীনতার ঘোষণা ও রণাঙ্গনে জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট জিয়া যদি স্বাধীনতার ঘোষণা না দিতেন এবং যুদ্ধের নেতৃত্ব না দিতেন, তবে বাংলার দামাল ছেলেরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ত না। স্বাধীন বাংলাদেশ পাওয়া তখন অত্যন্ত দুরূহ ও কষ্টকর ছিল।'
তিনি আরও বলেন, 'দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিভক্তি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন ছিল। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান এ দেশকে নতুনভাবে গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সংকটকালে জিয়া পরিবারের অবদান ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার ইতিহাস ব্যাখ্যা করে শেষ করা যাবে না।'
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু এবং বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি প্রমুখ। সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
