ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তির আভাসে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
ইরান যুদ্ধ অবসানে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—পাকিস্তানের একটি সূত্রের এমন খবরের পর আজ বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরণের পতন ঘটেছে। ফলে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯.০৮ ডলার বা ৮.৩ শতাংশ কমে ১০০.৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে লেনদেনের এক পর্যায়ে তেলের দাম ২২ এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো ১০০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) সূচকে ক্রুডের দাম ৯.১২ ডলার বা ৮.৯ শতাংশ কমে ৯৩.১৫ ডলারে নেমেছে।
উভয় মূল্য সূচকের ক্ষেত্রেই গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের পর এটিই একদিনে সর্বোচ্চ দরের পতন। আগের সেশনের লেনদেনেও তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমেছিল।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইরানের কাছ থেকে উত্তরের প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনা সংশ্লিষ্ট সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই পক্ষ এই প্রথম চুক্তির এত কাছাকাছি পৌঁছেছে।
এর আগে ইরান জানিয়েছিল, তারা কেবল একটি 'ন্যায়সঙ্গত এবং ব্যাপকভিত্তিক' চুক্তি গ্রহণ করবে।
গত সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে বের করে দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের বেশ কয়েকটি গানবোট ধ্বংস করেছে। এরপর মার্কিন যুদ্ধজাহাজেও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানায় ইরান। ফলে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে জ্বালানি তেলের সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়, তা দামকে উর্ধ্বমুখী করে তুলেছিল। গত সপ্তাহেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে কেনাবেচা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির মজুদে টান পড়েছে। এই অবস্থায় শোধনাগারগুলো উৎপাদন ঘাটতি পূরণের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বাজার সংশ্লিষ্টরা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুদ টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো কমেছে। পাশাপাশি পেট্রল ও ডিস্টিলেট মজুদেও টান পড়েছে।
সূত্রমতে, গত ১ মে সমাপ্ত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুদ ৮১ লাখ ব্যারেল কমেছে। এছাড়া পেট্রলের মজুদ আগের সপ্তাহের চেয়ে ৬১ লাখ ব্যারেল এবং ডিস্টিলেটের মজুদ ৪৬ লাখ ব্যারেল কমেছে।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের পরিসংখ্যান শাখা ইআইএ থেকে আজ এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
