Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Tuesday
June 02, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
TUESDAY, JUNE 02, 2026
সিএনএনের বিশ্লেষণ: ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বহুমুখী স্থবিরতার ঝুঁকি, ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট

আন্তর্জাতিক

সিএনএন
01 June, 2026, 08:15 pm
Last modified: 01 June, 2026, 08:30 pm

Related News

  • আবারও শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা: সিএনএন
  • ‘তুমি বদ্ধ উন্মাদ, সবাই এখন তোমাকে ঘৃণা করে’: লেবানন নিয়ে ফোনালাপে বিবি-র ওপর চটলেন ট্রাম্প
  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত ও হরমুজ বন্ধের ঘোষণার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি বাড়ল ৬ ডলার
  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দিল ইরান, হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি’ বন্ধের ঘোষণা
  • মোদির পাকিস্তানকে একঘরে করার প্রচেষ্টা যেভাবে ‘বুমেরাং’ হলো

সিএনএনের বিশ্লেষণ: ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বহুমুখী স্থবিরতার ঝুঁকি, ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।
সিএনএন
01 June, 2026, 08:15 pm
Last modified: 01 June, 2026, 08:30 pm

নিউ জার্সির মরিসটাউন বিমানবন্দরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই নিজের তৈরি করা বহুমুখী সংকটে আরও বেশি জর্জরিত হয়ে পড়ছেন। হোয়াইট হাউসে ফেরার প্রথম বছরেই সব ধরণের প্রতিরোধকে চূর্ণ করে দেওয়ার পেছনে কাজ করেছিল তাঁর লাগামহীন ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার একরোখা মনোভাব। কিন্তু তাঁর সেই জেদই এখন মার্কিন রাজনীতিতে এমন এক পাল্টা প্রতিক্রিয়ার (ব্যাকল্যাশ) জন্ম দিচ্ছে, যা তাঁর রাজনৈতিক দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। চলমান এই প্রবণতার প্রকাশ ঘটবে এমন এক সপ্তাহে, যখন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ একাধিক ফ্রন্টে স্থবির হয়ে পড়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

ট্রাম্পের জন্য এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় ও গুরুতর চ্যালেঞ্জ হলো ইরান যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার একটি পথ খুঁজে বের করা; যা যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী করবে এবং ইরানকে দুর্বল করবে। কারণ, আমেরিকা ও ইসরায়েলের অবিরাম ও তীব্র বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে তারা।

অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে, ট্রাম্পের নেওয়া সবচেয়ে বিতর্কিত পদক্ষেপগুলোর একটি—১.৭৭৬ বিলিয়ন (১৭৭ কোটি ৬০ লাখ) ডলারের একটি বিশেষ তহবিল, যা ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় অংশ নেওয়ার দায়ে দণ্ডিত ট্রাম্প সমর্থকদের ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যবহার করা হতে পারে—তা এখন ভেস্তে যাওয়ার মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্টের এমন একনায়কসুলভ আচরণের প্রতি ক্ষোভ থেকে সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির (জিওপি) ভেতরের এক বড় ধরণের বিদ্রোহের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। 'গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার'-এর একটি কনসার্ট সিরিজ মার্কিন শিল্পীরা বয়কট করায় চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প। শিল্পীদের অভিযোগ, এই জাতীয় আয়োজনকে রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছে। এর জবাবে, ট্রাম্প সেই "বিরক্তিকর" গায়কদের তীব্র সমালোচনা করে এবং সেখানে একটি "মাগা" র‍্যালির ডাক দিয়ে নিজেই অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করার পরিকল্পনা করছেন। তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ একটি জাতীয় ঐক্যের মুহূর্তকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া—দলীয় বা রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলাকে আরও গভীর করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ক্ষমতা কুক্ষিগত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প গত শুক্রবার আরেকটি বড় ধাক্কা খান, যখন একজন মার্কিন বিচারক রায় দেন যে বিখ্যাত 'কেনেডি সেন্টার'-এর নামের সাথে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায়, প্রেসিডেন্ট ক্ষুব্ধ হয়ে জানিয়েছেন, পারফর্মিং আর্টস সংক্রান্ত ওই শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য তাঁর পরিকল্পিত সম্পূর্ণ সংস্কার প্রকল্প তিনি এখন পুরোপুরি বাতিল করে দেবেন।

ওয়াশিংটনে কেনেডি সেন্টারের ফলকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামযুক্ত সাইনেজ স্থাপন করছেন কর্মীরা। ফাইল ছবি: ব্লুমবার্গ

এটা স্পষ্ট যে, ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি পথ খোঁজার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এর তুলনায়, অন্যান্য বিতর্কগুলোকে হয়তো কিছুটা তুচ্ছ মনে হতে পারে। কিন্তু এগুলো এমন কিছু বিষয়, যেখানে ট্রাম্প নিজেই তাঁর ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক পুঁজি চরমভাবে বিনিয়োগ করেছেন। ফলে, এমন এক সময়ে যখন তাঁর জনপ্রিয়তার রেটিং (অ্যাপ্রুভাল রেটিং) ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, তখন তাঁর অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে প্রশ্ন ওঠা মোটেও আশ্চর্যজনক নয়।

এই বিতর্ককে আরও উস্কে দেবে হোয়াইট হাউসের ভেঙে ফেলা ইস্ট উইংয়ের (পূর্ব অংশ) ঠিক পাশেই সাউথ লনে একটি বিশাল ইউএফসি এরিনা নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত। আগামী ১৪ জুন প্রেসিডেন্টের ৮০তম জন্মদিনের একটি জমকালো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কঠিন অগ্নিপরীক্ষার আগে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্যদের জন্য এর কোনোটিই ভালো খবর নয়। তারা এমন একজন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন, যিনি এটা মানতেই নারাজ যে দেশের বেশিরভাগ ভোটার তাঁর দেখানো 'অর্থনৈতিক স্বর্ণযুগের' স্বপ্নকে আর নতুন করে বিশ্বাস করছেন না।

রাজনৈতিকীকরণের অভিযোগ অস্বীকার প্রশাসনের

প্রেসিডেন্ট দেশের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনকে রাজনৈতিকীকরণ করছেন বলে যে সমালোচনা উঠেছে, গত রবিবার তার কড়া জবাব দিয়েছেন মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বারগাম। সিএনএন-এর "স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন" অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, এই উদযাপনের সময় ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে একটি মূল চরিত্রে থাকা অত্যন্ত "গুরুত্বপূর্ণ"। তবে বারগাম এই বার্ষিকী উদযাপনের বিতর্ক ঘিরে একটি দিক চতুরতার সাথে এড়িয়ে গেছেন; তিনি প্রেসিডেন্টের 'ফ্রিডম ২৫০' নামক সংস্থার কর্পোরেট দাতাদের নাম প্রকাশের আহ্বান জানাতে ব্যর্থ হন। এর ফলে এমন এক প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৈতিকতা লঙ্ঘনের ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা মূলত ট্রাম্পের পছন্দের অনুষ্ঠানগুলোতে অর্থায়ন করা বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ ও নীতিগত বিষয়সমূহ নির্ধারণের অবস্থানে রয়েছে।

বারগাম আরও যুক্তি দেন, আসল কেলেঙ্কারি তো ছিল আগের প্রশাসনগুলোর আমলে, যারা রাজধানীর ফোয়ারা ও স্মৃতিস্তম্ভগুলোকে জরাজীর্ণ অবস্থায় ফেলে রেখেছিল। ট্রাম্প মূলত সেগুলোকে সংস্কার করে দেশের সেবা করছেন। ওয়াশিংটনের ইউনিয়ন স্টেশনের বাইরের একটি এলাকার কথা উল্লেখ করে মার্কিন এই মন্ত্রী বলেন, "তিনি (ট্রাম্প) যেসব জিনিসে হাত দেন, সেগুলোকে আরও উন্নত করে তোলেন।" উল্লেখ্য, ওই এলাকাটি একসময় গৃহহীনদের ক্যাম্প এবং গ্রাফিতির (দেয়াল লিখন) জন্য কুখ্যাত ছিল, যা বর্তমান প্রশাসন সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছে।

ওয়াশিংটনের কিছু অংশে ট্রাম্পের এই সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পগুলো যে দৃশ্যমান উন্নতি নিয়ে আসবে, তা নিয়ে অবশ্য কোনো দ্বিমত নেই।

কিন্তু কিছু প্রকল্প, যেমন—ইস্ট উইং বা পূর্ব অংশের জায়গায় তিনি যে বিশাল বলরুম তৈরি করছেন, তা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার অতিরিক্ত অপব্যবহারের শামিল হতে পারে। অন্য কাজগুলো, যেমন—ইউএস ইনস্টিটিউট ফর পিস-এর নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে করা এবং পোটোম্যাক নদীর কাছে একটি বিশাল খিলান (আর্চ) তৈরির পরিকল্পনা মূলত তাঁর আত্মঅহমিকার প্রকাশ হিসেবেই দেখছেন অনেকে; ঠিক যেমনটি দেখা গেছে ট্রাম্পের ছবি দিয়ে ২৫০ ডলারের নতুন নোট ছাপানোর ট্রেজারির পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও।

হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে নতুন বলরুম যুক্তকরণের কাজ এগিয়ে চলেছে। ছবি: গেটি/ ভায়া সিএনএন

একজন প্রেসিডেন্ট যখন কংক্রিট দিয়ে নিজের স্মৃতিস্তম্ভ বা লিগ্যাসি নির্মাণে ব্যস্ত, আর সাধারণ আমেরিকানরা যখন খাবার এবং ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে—এই দুই বৈপরীত্য বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। যদিও ডেমোক্র্যাট দল নিজেও তাদের গভীর অজনপ্রিয়তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে কেন তারা লাখ লাখ ভোটারকে নিজেদের থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছিল, তা বুঝতে এখনও তাদের যুঝতে হচ্ছে।

নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট সিনেটর কোরি বুকার গত রোববার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সমালোচকদের চোখে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত দুর্নীতি, আত্মম্ভরিতা এবং আমেরিকানদের অর্থনৈতিক কষ্টের প্রতি তাঁর উদাসীনতাকে ডেমোক্র্যাট দল মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ন্যারেটিভ বা প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করবে।

এবিসি-র "দিস উইক" অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ট্রাম্প একটি "১.৭৭৬ বিলিয়ন ডলারের গোপন তহবিল (স্লাশ ফান্ড)" গঠনের চেষ্টা করছেন এবং প্রেসিডেন্ট চান "আমাদের টাকা, আমাদের পাসপোর্ট এবং আমাদের পার্ক পাসের ওপর নিজের নাম বসাতে। আর যখন আদালত তাঁকে বাধা দেয়, তখন তিনি একটি জেদি শিশুর মতো আচরণ করেন।"

সাধারণ মানুষের কষ্টের তীব্র বৈপরীত্য তুলে ধরে বুকার তাঁর নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের কথা উল্লেখ করে বলেন, "আমার এখানে এমন অনেক পরিবার রয়েছে যারা বলছে, 'আমি আমার গাড়ির জন্য তেল কিনতে পারছি না এবং আমার সন্তানদের ডে-কেয়ার বা শিশু সুরক্ষার খরচ জোগাতে পারছি না।'"

ইরান সংকট থেকে বেরোনোর কি কোনো পথ খুঁজে পাবেন ট্রাম্প?

এক সপ্তাহ আগেও আংশিকভাবে ট্রাম্পের আশাবাদী মন্তব্যের ওপর ভর করে ইরানের সাথে একটি আসন্ন শান্তি চুক্তির ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চুক্তি সম্পাদিত হয়নি, যা তার সামনে থাকা কিছু অপ্রীতিকর বা কঠিন সিদ্ধান্তের কথাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কোনো স্পষ্ট এক্সিট স্ট্র্যাটেজি বা বাস্তবসম্মত বিজয়ের পরিকল্পনা ছাড়াই তাঁর একটি যুদ্ধ শুরু করার খামখেয়ালিপনার কারণে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদক কেভিন লিপটাক গত রোববার জানান, ট্রাম্প একটি প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়ায় কিছু পরিবর্তন এনে সেটিকে ইরানের কাছে পাঠিয়েছেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র বর্জন করে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে—তাতে আরও কঠোর ভাষা যুক্ত করার জন্য জোর দিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়া, ইরানকে প্রলোভন হিসেবে যে ধরণের আর্থিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করা হতে পারে, তা নিয়েও তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

এই যুদ্ধ অবসানের জন্য দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিকভাবে চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্প, কারণ অধিকাংশ আমেরিকানই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। তবে যুদ্ধ শুরু করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প বহু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজের ধারণার ওপর অতিরিক্ত আস্থা রেখেছিলেন। ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত একটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে এবং তেহরানের হাতে এমন একটি বাড়তি সুবিধা বা লেভারেজ এনে দিয়েছে, যা সংঘাতের আগে তাদের ছিল না।

ডেলওয়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুন্স "ফক্স নিউজ সানডে" অনুষ্ঠানে বলেন, যদি ট্রাম্প "ইরানের যেকোনো ধরণের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের ওপর একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করতে পারেন, এবং আমরা যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর পূর্ণ নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ পাই এবং ইরানের কোনো ধরণের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত করতে পারি… তবে তা হবে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি।" তবে তিনি আরও যোগ করেন, "আমি আশা করি না যে তিনি এটি অর্জন করতে পারবেন।"

"খোলাখুলিভাবে বলতে গেলে, এই যুদ্ধ শুরুর আগের ৯০ দিন আগের তুলনায় ইরান এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। কারণ তারা তাদের সস্তা এবং প্রাণঘাতী ড্রোনগুলো কেবল হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতেই ব্যবহার করেনি, একইসঙ্গে এই অঞ্চলে আমাদের অংশীদার ও মিত্রদের ওপর হামলা চালাতে, তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ক্ষতি করতে এবং আমাদের দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতেও ব্যবহার করেছে।"

হরমুজ প্রণালিতে নোঙর করে থাকা জাহাজের সারি। ওমানের মুসানদাম থেকে ড্রোন থেকে তোলা ছবি: রয়টার্স।

সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, আলোচনার বিষয়ে ইরানের সদিচ্ছা পরখ করতে ট্রাম্পের আরও কিছুটা সময় নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। তবে তিনি এক ধরণের কোণঠাসা অবস্থায় আটকা পড়েছেন, কারণ শান্তি আলোচনার বিকল্প পথ—অর্থাৎ যুদ্ধ আরও বাড়িয়ে দিলে—তাতে কোনো চূড়ান্ত সাফল্য আসার সম্ভাবনা কম, বিশেষ করে উপর্যুপরি আক্রমণের মুখেও ইরানের যে সুদৃঢ় প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখা গেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে তো বটেই।

তা সত্ত্বেও, আলোচনায় ইরানের এই ধারাবাহিক অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দেয় যে, তারাও বর্তমানের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির চেয়ে সংঘাতের একটি স্থায়ী অবসান চায় এবং মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান দেখতে চায়—যা তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

রাজনৈতিক দিক থেকে, রিপাবলিকান পার্টির এই মুহূর্তে একটি বড় ধরনের ব্রেকথ্রু বা সাফল্য প্রয়োজন। হোয়াইট হাউস ইকোনমিক কাউন্সিল-এর পরিচালক কেভিন হ্যাসেট জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের হতাশার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি এবিসি নিউজ-কে বলেন, "আশা করা যায়" এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে এবং "পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।"

রিপাবলিকানদের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের এই উত্তপ্ত গ্রীষ্মে রিপাবলিকানদের ওপর চেপে বসা একমাত্র রাজনৈতিক কারণ কিন্তু এই যুদ্ধ নয়। দলের কিছু অংশ এখন প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করছে—এবং এর জন্য ট্রাম্পের বিভাজনমূলক রাজনীতি ও স্টাইলই মূলত দায়ী।

যেমন ১.১৭৬ বিলিয়ন ডলারের এই "অ্যান্টি-ওয়েপোনাইজেশন ফান্ড" বা বিশেষ তহবিলটি ঝুঁকিতে থাকা রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের জন্য এক উভয়সংকটের তৈরি করেছে। একদিকে তাদের দলের সেই কট্টর সমর্থকদের সন্তুষ্ট করতে হচ্ছে যারা এই ধরণের পরিকল্পনা দেখে আনন্দ পায়, আবার অন্যদিকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের কাছেও টানতে হচ্ছে, যারা বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে অপছন্দ করেন।

এই তহবিলটি নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটরদের ক্ষোভের জেরে মেমোরিয়াল ডে ছুটির আগে প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার 'ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট বিল' বা অভিবাসন আইন পাসের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ফাঁস হওয়া ট্যাক্স রিটার্ন থেকে উদ্ভূত ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি মামলার বিষয়ে— নিজের বিচার বিভাগের সাথে করা একটি সমঝোতা থেকেই এই তহবিলের সূত্রপাত হয়েছিল।

ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পার্লামেন্টের ক্যাপিটল ভবন। ছবি: ব্লুমবার্গ

আরও একবার দেখা গেল যে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত লক্ষ্য এবং ক্ষোভ বা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার এই অন্ধ চেষ্টা শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত বা উল্টো ফল বয়ে আনছে।

ট্রাম্পের প্রতি যথেষ্ট অনুগত নন—এমন মনে করে লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিডি এবং টেক্সাসের জন কর্নিন নামক দুই হেভিওয়েট সিনেটরকে প্রাইমারি নির্বাচনে পরাজিত করার পেছনে ট্রাম্পের যে হস্তক্ষেপ, তা এখন উল্টো সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে দুর্বল করার হুমকি তৈরি করেছে। এছাড়া নর্থ ক্যারোলিনার আরেক অবসরগামী রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসও এখন ট্রাম্পের জন্য বড় বাধা হয়ে উঠেছেন।

সিনেটের এই ক্রমবর্ধমান জটিলতা মূলত ইরান যুদ্ধ এবং ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন নিয়ে ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনা ও তা সামলানোর ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া এক বৃহত্তর নেতিবাচক প্রবণতারই অংশ।

সীমাহীন ক্ষমতা প্রয়োগের প্রতি ট্রাম্পের এই তীব্র মনোযোগ হয়তো স্বল্পমেয়াদে কাজ করেছিল, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি তাঁর নিজের দল, দেশ এবং পুরো বিশ্বের ওপর তাঁর প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণকে আলগা বা দুর্বল করে দেওয়ার মতো এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে।

Related Topics

টপ নিউজ

ডোনাল্ড ট্রাম্প / যুক্তরাষ্ট্র / রাজনৈতিক সংকট

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। ছবি: টিবিএস
    আমি শুধু বাচ্চারে টুকরো করেছি, ধর্ষণ করেছে ডলার, মারছে ডলার: রামিসা হত্যার প্রধান আসামি সোহেল
  • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। ফাইল ছবি: বাসস
    পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
  • ছবি: টিবিএস
    ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অপসারণসহ ‘গ্রাহক ফোরামের’ ৫ দাবি, লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
  • চীনে প্রকাশ্যে ধূমপান। ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস
    শি জিনপিং ধূমপান ছেড়েছেন, চীন এখনও পারেনি; বিশ্বের প্রায় অর্ধেক সিগারেট পোড়ে এ দেশেই
  • ফাইল ছবি: টিবিএস
    ‘আমার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই’—আদালতে রামিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা
  • ফাইল ছবি/রয়টার্স
    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দিল ইরান, হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি’ বন্ধের ঘোষণা

Related News

  • আবারও শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা: সিএনএন
  • ‘তুমি বদ্ধ উন্মাদ, সবাই এখন তোমাকে ঘৃণা করে’: লেবানন নিয়ে ফোনালাপে বিবি-র ওপর চটলেন ট্রাম্প
  • যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত ও হরমুজ বন্ধের ঘোষণার পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি বাড়ল ৬ ডলার
  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দিল ইরান, হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি’ বন্ধের ঘোষণা
  • মোদির পাকিস্তানকে একঘরে করার প্রচেষ্টা যেভাবে ‘বুমেরাং’ হলো

Most Read

1
প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

আমি শুধু বাচ্চারে টুকরো করেছি, ধর্ষণ করেছে ডলার, মারছে ডলার: রামিসা হত্যার প্রধান আসামি সোহেল

2
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। ফাইল ছবি: বাসস
বাংলাদেশ

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ

3
ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অপসারণসহ ‘গ্রাহক ফোরামের’ ৫ দাবি, লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

4
চীনে প্রকাশ্যে ধূমপান। ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস
আন্তর্জাতিক

শি জিনপিং ধূমপান ছেড়েছেন, চীন এখনও পারেনি; বিশ্বের প্রায় অর্ধেক সিগারেট পোড়ে এ দেশেই

5
ফাইল ছবি: টিবিএস
বাংলাদেশ

‘আমার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই’—আদালতে রামিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা

6
ফাইল ছবি/রয়টার্স
বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দিল ইরান, হরমুজ প্রণালি ‘পুরোপুরি’ বন্ধের ঘোষণা

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net