আমি না থাকলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না, ওবামার চুক্তি ছিল পারমাণবিক অস্ত্রের পথ: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি না থাকলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের রুজভেল্ট রুমে বসে 'দ্য অ্যাক্সিওস শো'-এর মার্ক ক্যাপুটোকে দেওয়া ৪৫ মিনিটের এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, 'আমি তাদের (ইরান) থামাতে বাধ্য হয়েছিলাম, কারণ তাদের কাছে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তারা তা ব্যবহার করত। আর আপনি যদি বিশৃঙ্খলা দেখতে চান, তাহলে তাদের দিয়ে কোনো একটি জায়গার কয়েকটি শহর উড়িয়ে দিতে দিন, যেমন তারা ইসরায়েলকেও উড়িয়ে দিত।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার জন্য ইসরায়েল আজ টিকে আছে, কারণ আমি বারাক হুসেইন ওবামার করা জেসিপিওএ চুক্তি বাতিল করেছি, যা ছিল পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে যাওয়ার একটি পথ। তারা পাঁচ বছর আগেই তা পেয়ে যেত। আমার মতে, তারা প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই তা ব্যবহার করত, আজ আর ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি না থাকলে বহু বছর আগেই ইসরায়েল ধ্বংস হয়ে যেত।'
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বিশ্ব রাজনীতির নানা উত্তপ্ত ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। ইরানের সাথে তার করা সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমেই বিশ্ব এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা থেকে রক্ষা পেয়েছে। তার মতে, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘ হলে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ধসে পড়ার শঙ্কা ছিল।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে 'কিছুটা হলেও সংযত রাখার চেষ্টা করছেন' এবং তার প্রতি নেতানিয়াহুর 'অনেক সম্মান' রয়েছে। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'হ্যাঁ। তারা আমাকে অনেক সম্মান করে—এবং আমি যা বলি তা-ই করে।'
তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টা 'ব্যাহত' করার চেষ্টা করতে পারেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে প্রকাশ করা একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল লেবাননে ইরানের ছায়াগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। অথচ লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করা হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৈরি হতে যাওয়া চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত।
এদিকে সাক্ষাৎকারে কিউবা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হলে তিনি ইঙ্গিত দেন, দ্বীপ দেশটিতে ভেনেজুয়েলার মতো দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, 'এটি ঘটা সম্ভব। ইরানের তুলনায় ভেনেজুয়েলা বা কিউবা আমেরিকার অনেক কাছে। কিউবা তো আমাদের একেবারে হাতের নাগালে।'
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়েও নিজের উদ্বেগের কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শীর্ষস্থানীয় এআই ল্যাব অ্যানথ্রোপিক-এর সাম্প্রতিক মডেলগুলো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এখন হয়তো নয়, কিন্তু এক সপ্তাহ আগেও এটি বড় ঝুঁকি ছিল।'
সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে নিজের ক্ষমতার পরিধি নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তার শাসনব্যবস্থার ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ বা সীমারেখা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, 'আমার ক্ষমতার কোনো সীমা নেই। আমি জানি প্রতিকূলতা থাকে, কিন্তু বাস্তবে আমার জন্য কোনো সীমারেখা নেই।'
