ট্রাম্পের ‘স্বাস্থ্য চমৎকার’, তবে ওজন কমাতে ও ব্যায়ামের তাগিদ ব্যক্তিগত চিকিৎসকের
শুক্রবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসকের দেওয়া ওই রিপোর্টে ট্রাম্পকে 'চমৎকার স্বাস্থ্যের অধিকারী' হিসেবে বর্ণনা করা হলেও তাকে ওজন কমানো এবং নিয়মিত ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক ডক্টর শন বারবাবেলা এক চিঠিতে লিখেছেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চমৎকার স্বাস্থ্যের অধিকারী। তার হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, স্নায়বিক এবং সার্বিক শারীরিক কার্যক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী।'
তিনি আরও বলেন, 'তার বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক দক্ষতা চমৎকার। কমান্ডার-ইন-চিফ এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সব দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সম্পূর্ণ উপযুক্ত।'
পরীক্ষা চলাকালীন প্রেসিডেন্টকে কিছু বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে বারবাবেলা জানান, ট্রাম্পকে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, কম মাত্রার অ্যাসপিরিন গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রম বাড়ানো এবং ধারাবাহিকভাবে ওজন কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্পের উচ্চতা ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং বর্তমান ওজন ২৩৮ পাউন্ড। উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিল মাসে তার ওজন ছিল ২২৪ পাউন্ড, অর্থাৎ এক বছরে তার ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত মঙ্গলবার ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে ট্রাম্পের এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। গত বছর সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটি ছিল ওই হাসপাতালে তার তৃতীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা। হোয়াইট হাউস এই সফরকে 'অ্যানুয়াল রুটিন ডেন্টাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল টেস্ট' হিসেবে অভিহিত করলেও, এ বছর ইতোমধ্যেই ফ্লোরিডায় দুইবার দন্তচিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন ট্রাম্প।
পরীক্ষা শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ট্রাম্প সংক্ষেপে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখেন, 'সবকিছু একেবারে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়েছে।'
২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে জনমনে নানা জল্পনা তৈরি হয়। গত গ্রীষ্মে তার পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হলে হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্প 'ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি' নামক একটি সমস্যায় ভুগছেন। এই অবস্থায় রক্তনালীর ভালভগুলো ঠিকমতো কাজ না করায় রক্ত জমে গিয়ে পা ফুলে যায়।
চিকিৎসক তাকে কম্প্রেশন মোজা পরার পরামর্শ দিলেও ট্রাম্প তা অস্বস্তিকর মনে করে এড়িয়ে চলেন। তবে শুক্রবারের চিঠিতে চিকিৎসক জানিয়েছেন, ট্রাম্পের পায়ে সামান্য ফোলা ভাব থাকলেও তা গত বছরের তুলনায় উন্নত অবস্থায় আছে।
এছাড়া ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার হাতে কিছু কালচে দাগ বা কালশিটে লক্ষ করা গেছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, ঘন ঘন করমর্দনের কারণে এই দাগ তৈরি হয় এবং অনেক সময় স্থিরচিত্রে তা আড়াল করতে 'কনসিলার' ব্যবহার করা হয়।
চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের একটি স্নায়বিক পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে তার মানসিক অবস্থা, স্নায়ু, পেশির শক্তি, হাঁটাচলা এবং শারীরিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। তার হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের বিষয়ে চিকিৎসক জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ইসিজি বিশ্লেষণে দেখা গেছে ট্রাম্পের হৃদযন্ত্রের বয়স তার প্রকৃত বয়সের চেয়ে প্রায় ১৪ বছর কম।
বর্তমানে ট্রাম্প নিয়মিত অ্যাসপিরিন গ্রহণ করছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হলেও এর নির্দিষ্ট মাত্রা জানানো হয়নি। সাধারণত চিকিৎসকরা হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য দৈনিক ৮১ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিনের পরামর্শ দেন। তবে গত জানুয়ারিতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ৩২৫ মিলিগ্রামের উচ্চমাত্রার অ্যাসপিরিন সেবন করেন, যা রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'তারা বলে রক্ত পাতলা রাখার জন্য অ্যাসপিরিন ভালো। আমি চাই না আমার হৃদপিণ্ড দিয়ে ঘন রক্ত প্রবাহিত হোক। চিকিৎসকরা ছোট ডোজের কথা বললেও আমি বড়টি নিই। আমি বছরের পর বছর ধরে এটি করছি এবং এর ফলেই শরীরে কালশিটে দাগ পড়ে।'
স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়া শনাক্তকরণে ব্যবহৃত 'মন্ট্রিয়াল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট' পরীক্ষায়ও অংশ নেন ট্রাম্প। চিকিৎসক জানিয়েছেন, ১০ মিনিটের এই পরীক্ষায় প্রেসিডেন্ট ৩০-এর মধ্যে ৩০ নম্বরই পেয়েছেন।
