শান্তি চুক্তির ৩০ দিন পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে ইরান: নিক্কেইয়ের প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রায় ৩০ দিন পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে বলে সোমবার জানিয়েছে জাপানি সংবাদপত্র নিক্কেই। পত্রিকাটি মধ্যপ্রাচ্যের একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
নিক্কেইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো চুক্তি হওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে ইরান প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের কাজ এগিয়ে নেবে। এর পর সব দেশের জাহাজ স্বাধীন ও নিরাপদভাবে ওই জলপথে চলাচল করতে পারবে এবং ইরান আর কোনো ট্রানজিট ফি আদায় করবে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এপ্রিলের শুরুর দিকে যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি হয়েছিল, সেটি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে এই দুই মাসের বিরতির সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া ইরান অবাধে তেল বিক্রি করতে পারবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন।
তবে শান্তি চেষ্টার মাঝেই আবারও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মাইন পাততে চেষ্টা করা নৌযানগুলোকে এবার টার্গেট করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ হামলাগুলো ছিল প্রতিরক্ষামূলক অভিযান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দোহায় অবস্থান করছেন। সোমবার সফর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে দ্রুত কোনো সমঝোতা হবে—এমন সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
এর আগে নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সফল হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়া হবে। তবে প্রয়োজন হলে ইরানকে 'অন্য উপায়ে' মোকাবিলার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে।
