হোয়াইট হাউসের বাইরে গুলি চালানো ব্যক্তি নিজেকে 'যিশুখ্রিস্ট' দাবি করতেন
নিজেকে যিশুখ্রিষ্ট ভাবা নাস্যায়ার বেস্ট (২১) শনিবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের বাইরে চেকপয়েন্ট লক্ষ্য করে গুলি চালানো শুরু করেন। তবে দ্রুত সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওয়াশিংটন সময় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে ১৭ নম্বর নর্থওয়েস্ট স্ট্রিটে অদ্ভুতভাবে পায়চারি করতে দেখা যায় বেস্টকে। এরপরই তিনি একটি চেকপয়েন্ট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। মাত্র কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পরপরই ফেডারেল কর্মকর্তাদের ছোড়া গুলিতে তিনি নিহত হন।
সূত্রগুলো আরও জানায়, গোলাগুলির এই ঘটনায় একজন পথচারী গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
হামলার উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সূত্রগুলো বলছে, বেস্ট মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন প্রবেশপথের চারপাশে ঘোরাঘুরি করার কারণে তিনি সিক্রেট সার্ভিসের কাছেও পরিচিত ছিলেন। এর আগে হোয়াইট হাউস থেকে দূরে থাকার বিষয়ে আদালতের একটি নির্দেশও অমান্য করেছিলেন তিনি।
বেস্টকে এর আগে গত ২৬ জুন ফিফটিনথ স্ট্রিট এবং ই স্ট্রিট এনডব্লিউতে যান চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। এরপর ১০ জুলাই বেআইনিভাবে প্রবেশের অভিযোগে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই ঘটনা সম্পর্কিত আদালতের নথিতে বলা হয়, 'বেস্ট দাবি করেছিলেন যে তিনি যিশুখ্রিষ্ট এবং তিনি গ্রেপ্তার হতে চেয়েছিলেন।'
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল লেখেন, 'এফবিআই ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণের কাছে গোলাগুলির ঘটনায় সিক্রেট সার্ভিসকে সহায়তা করছে। আমরা যতটা সম্ভব জনসাধারণকে আপডেট জানাব।'
সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক
গোলাগুলির শব্দে হোয়াইট হাউসে নিয়মিত কাজ করা সংবাদকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এবিসির একজন সাংবাদিককে লাইভ সম্প্রচার চলাকালে বাঁচার জন্য আড়াল খুঁজতে দেখা যায়।
এবিসির সিনিয়র হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্ট সেলিনা ওয়াং বলেন, 'আমি হোয়াইট হাউসের নর্থ লন থেকে আমার ফোনে সামাজিক মাধ্যমের জন্য একটি ভিডিও রেকর্ড করছিলাম। ঠিক তখনই আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাই। মনে হচ্ছিল যেন ডজনখানেক গুলি ছোড়া হচ্ছে। এরপর আমাদের দৌড়ে প্রেস ব্রিফিং রুমে চলে যেতে বলা হয়।'
সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ (লকডাউন) করে দেয়। সাংবাদিকদের নর্থ লনে জড়ো হয়ে প্রেস ব্রিফিং রুমে ছুটে যেতে বলা হয়। আধা ঘণ্টা পর লকডাউন তুলে নেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছিলেন যে তিনি ওভাল অফিসে বসে ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। তার এই পোস্ট দেওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
নেতাদের প্রতিক্রিয়া
এই গোলাগুলির পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা জানা যায়নি। তবে ঘটনার পর উভয় দলের নেতারাই রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
হাউস স্পিকার মাইক জনসন (রিপাবলিকান) বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রক্ষা করতে যেসব সাহসী সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আজকের রাতের এই অর্থহীন গোলাগুলিতে আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য আমরা প্রার্থনা করছি।'
প্রতিনিধি বেটি ম্যাককলাম (ডেমোক্র্যাট) এই গোলাগুলির কড়া নিন্দা জানিয়ে বলেন, 'আমাদের মতবিরোধগুলো ব্যালট বাক্সে বা ভোটের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত—এই সাধারণ বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।'
এর আগে প্রায় এক মাস আগে হোয়াইট হাউস করসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজ চলাকালে এক বন্দুকধারী গুলি চালায়, যেখানে ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিল এক বন্দুকধারী, যে ঘটনায় তার কানে গুলি লেগেছিল।
শনিবারের গোলাগুলির পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন, 'আজ সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের কাছে এক বন্দুকধারীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের দুর্দান্ত সিক্রেট সার্ভিস এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ। এই ব্যক্তির সহিংস ইতিহাস ছিল এবং সে সম্ভবত আমাদের দেশের সবচেয়ে মূল্যবান এই স্থাপনার প্রতি বাতিকগ্রস্ত ছিল।'
তিনি আরও লেখেন, 'হোয়াইট হাউসের গেটের কাছে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের সঙ্গে গোলাগুলিতে ওই বন্দুকধারী নিহত হয়েছে। হোয়াইট হাউস করসপনডেন্টস ডিনারে গোলাগুলির মাত্র এক মাস পরই এই ঘটনা ঘটল। এটি প্রমাণ করে যে ভবিষ্যতের সব প্রেসিডেন্টের জন্য ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত জায়গা তৈরি করা কতটা জরুরি। আমাদের দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এটা দরকার!'
