এআই স্টার্টআপ ম্যানাস কিনতে মেটার ২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি আটকে দিল চীন
ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) স্টার্টআপ ম্যানাস কেনার প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছে চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
গত ডিসেম্বরের শেষে ঘোষিত এই চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। মেটা জানিয়েছিল, ম্যানাস-এর প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা তাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা বাড়াতে চেয়েছিল।
তবে সোমবারের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন এই চুক্তিতে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এই ক্রয়সংক্রান্ত লেনদেন থেকে সরে আসার নির্দেশ দিয়েছে।
মেটার একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, 'এই লেনদেন প্রক্রিয়ায় প্রচলিত সব আইন পুরোপুরি মেনে চলা হয়েছে।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা আশা করছি এই তদন্তের একটি যথাযথ সমাধান আসবে।'
চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো গত কয়েক মাস ধরে মেটার এই ক্রয় প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারি চালানোর পর এই সিদ্ধান্ত নিল।
ম্যানাস দাবি করে, তাদের এআই এজেন্ট 'পুরোপুরি স্বায়ত্তশাসিত', যা তাদের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী এআই ডেভেলপারদের থেকে আলাদা করে তোলে।
অনেক চ্যাটবটের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত উত্তরের জন্য ব্যবহারকারীকে বারবার নির্দেশ দিতে হয়। কিন্তু ম্যানাস জানায়, তাদের পরিষেবাটি নির্দেশনা অনুযায়ী নিজে থেকেই পরিকল্পনা করতে এবং স্বাধীনভাবে কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম।
চুক্তিটি যখন ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন বিশ্লেষকরা একে মেটার জন্য একটি 'যুতসই পদক্ষেপ' হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। মূলত প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছেন।
সম্প্রতি মেটা তার কর্মীদের জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যয় বাড়াতে গিয়ে তারা হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে।
ম্যানাস বর্তমানে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হলেও, এটি চীনে প্রতিষ্ঠিত এবং আগে সেখানেই এর কার্যক্রম ছিল। ফলে প্রতিষ্ঠানটি চীনা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে রয়েছে।
চীনের প্রযুক্তিশিল্পকে ঘিরে বেশ কিছু কঠোর আইন ও প্রবিধান রয়েছে, যার মধ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের প্রযুক্তি রপ্তানি বা বিক্রির ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক-এর চীনা মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সের কাছ থেকে এটি বিক্রির পর যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তিতেও বেইজিংয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়েছিল।
গত মার্চ মাসে একটি প্রতিবেদনে জানা গিয়েছিল, মেটার এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যালোচনার সময় ম্যানাস-এর দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতাকে দেশ ত্যাগে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
সেই সময়ে মেটার এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছিলেন, 'ম্যানাস-এর অসাধারণ দলটি এখন মেটার সঙ্গে গভীরভাবে একীভূত হয়ে কাজ করছে। তারা ম্যানাস-এর সেবা পরিচালনা, উন্নয়ন এবং এর পরিধি বাড়াতে কাজ করছে। লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী যারা এই সেবা উপভোগ করছেন, তাদের জন্য এটি অব্যাহত থাকবে।'
ফলে, এই অধিগ্রহণ বাতিল করার যেকোনো নির্দেশনা মেটার জন্য বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন প্রযুক্তি শিল্পে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছে, তারা মার্কিন এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে যাতে প্রযুক্তির উদ্ভাবন চুরি করার 'শিল্প-স্তরের প্রচারণা' মোকাবিলা করা যায়।
তারা জানিয়েছে, নতুন তথ্যে দেখা গেছে 'মূলত চীনে অবস্থিত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো' আমেরিকার এআই মডেলগুলো কপি করছে।
এই বার্তার জবাবে ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাসের এক প্রতিনিধি 'যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক চীনা কোম্পানিগুলোর অন্যায্য দমনের' কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'চীন শুধু বিশ্বের কারখানা নয়, বরং এটি এখন বিশ্বের উদ্ভাবন গবেষণাগারেও পরিণত হচ্ছে।'
