রিলস দিয়েই কথা, রিলসেই বিচ্ছিন্নতা
বর্তমান তরুণ-কিশোরদের চ্যাটবক্স খুললেই দেখা যায়, টেক্সটের পরিবর্তে রিলসের ছড়াছড়ি। ইনবক্সে কোনো টেক্সট নেই, কেবল 'শেয়ারড' রিলস—এমন সংখ্যাও কম নয়। টাইপ করার পরিবর্তে একে অপরকে রিলস পাঠানোর মাধ্যমেই এখন সেরে নেওয়া হচ্ছে অনেক কথা। আবার অনেক দিন যোগাযোগ নেই, কিন্তু রিলসের কনটেন্টের সাথে মিলে গেছে বন্ধুর কোনো স্বভাব বা কাজ; তখন সেই রিলস পাঠানোর মাধ্যমেই আবার শুরু হয় আলাপ। এতে বন্ধুও বুঝতে পারে, তাকে কেউ ভুলে যায়নি!
এই রিলসের মাধ্যমে অনেক না-বলা কথাও কিন্তু বলা হয়ে যায়। যেসব কথা হয়তো সরাসরি সামনাসামনি বা লিখে বলা যায় না, অনেক সময় ছোট্ট একটি রিলসের মাধ্যমেই তা প্রকাশ করা যায়। এভাবেই অনলাইনে যোগাযোগের নতুন ভাষা হয়ে উঠেছে রিলস।
রিলসের আনন্দ এখানেই যে, এটি ব্যবহারকারীর 'মন', আত্মীয়-বন্ধুবান্ধবের সাথে সম্পর্কের মাত্রা, এমনকি বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে ভিডিও দেখাতে পারে। এ কারণে দর্শকও নিজেকে সহজেই এর সাথে মেলাতে পারেন। কনটেন্টগুলো এত চমৎকারভাবে মনের অবস্থা বা পরিস্থিতির সাথে মিলে যায় যে, কখনো কখনো মনে হয় মানুষের চেয়ে রিলস আমাদের বেশি বোঝে।
শাহানা কবির (৫০+) একজন গৃহিণী। যদিও 'রিলস' শব্দটি তার কাছে খুব একটা পরিচিত নয়, কিন্তু সন্ধ্যার পর সব কাজ সেরে তিনিও রিলস নিয়ে বসেন। তিনি বলেন, 'একটার পর একটা ভিডিও দেখতে থাকি, ভালোই লাগে। রান্নার রেসিপি শিখতে পারি অনেক, জামাকাপড় দেখি। আবার মা-মেয়ের কিছু ভিডিও আসে; ওগুলো আমরা দুজন দুজনকে পাঠাতে থাকি। দুজনেই বেশ মজা পাই। ভিডিওগুলো একদম আমাদের জীবনের মতোই হয়।'
মানুষকে হাসানোর পাশাপাশি সমালোচনা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে অনেক সংবেদনশীল বিষয় নিয়েও মানুষ তুলনামূলক সহজভাবে আলোচনা করতে পারছে। তবে বিনোদন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতেই বেশির ভাগ মানুষ রিলস তৈরি বা শেয়ার করে থাকেন।
আসলে কী খুঁজতে মোবাইলটি হাতে নিয়েছিলাম!
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগে মানুষ যোগাযোগ করত শুধু লেখা বা টেক্সট আদান-প্রদানের মাধ্যমে। এরপর যুক্ত হয় ছবি, ইমোজি, স্টিকার ও জিফি। আর এখন নিজের অনুভূতি প্রকাশের নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে রিলস। মেটা প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বার মানুষ সরাসরি বার্তার (ডাইরেক্ট মেসেজ) মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে রিলস শেয়ার করে।
রিলস শেয়ার করার এই প্রবণতা আজকাল সন্তান, বন্ধুবান্ধব, বাবা-মা বা আত্মীয়স্বজন—সবার মাঝেই জনপ্রিয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এখন কেটে যায় কেবল রিলস স্ক্রল করেই। এমন তো প্রায়ই হয় যে, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে কোনো নির্দিষ্ট কাজে ঢুকে সামনে চলে এলো একটি রিলস। আর সেই ভিডিওটি দেখতে গিয়ে পরপর আরও কয়েকটি দেখা হয়ে যায়। রিলস স্ক্রল করতে করতে শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারী ভুলেই যান যে, আসলে কী খুঁজতে তিনি মোবাইলটি হাতে নিয়েছিলেন!
'২০২৫ রিলস অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস: ইউজার অ্যান্ড কনটেন্ট ট্রেন্ডস' শীর্ষক এক নিবন্ধ বলছে, ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছে, যাতে মানুষ এখানে বেশি সময় ব্যয় করে। ফলে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক ফিডের গড়ে ৩৮.৫ শতাংশ এখন রিলস দিয়ে ভরা (৬ আগস্ট, ২০২৫)।
প্রতিদিন সাত ঘণ্টা অফিসের কাজ শেষে ইশরাত জাহান যখন বাসায় ফেরেন, তখন তার বেশির ভাগ সময় কাটে রিলস দেখে। তিনি বলেন, 'আমি মূলত সারাদিন আমাকে পাঠিয়ে রাখা সবার চ্যাটবক্স চেক করতে ঢুকি। দেখা যায়, কারও পাঠানো রিলসে একবার ঢুকলে এরপর অনেকগুলো ভিডিও পরপর দেখা হয়ে যায়। অনেকক্ষণ পর খেয়াল হয়, আমি আসলে টেক্সটগুলো চেক করতেই ফোনটা হাতে নিয়েছিলাম।'
নেটফ্লিক্সের চেয়েও এগিয়ে আছে বলে মনে করেন অনেকে
২০২৩ সালে অনলাইন গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'ইমার্কেটার'-এর প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান বলছে, ব্যবহারকারীরা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩১ মিনিট এই অ্যাপে সময় কাটান, যেখানে একঘেয়েমির কোনো সুযোগ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, দিন দিন এই সময় কাটানোর পরিমাণ বাড়ছেই।
কোভিড-১৯ মহামারির লকডাউনের সময় যখন টিকটক অনেক দেশে নিষিদ্ধ হয়ে যায়, ইনস্টাগ্রাম তখন তাদের প্ল্যাটফর্মে নতুন ফিচার হিসেবে চালু করে 'রিলস'। এর ফলে একসময় ছবি-কেন্দ্রিক অ্যাপ হিসেবে পরিচিত ইনস্টাগ্রাম ধীরে ধীরে ভিডিও-নির্ভর প্ল্যাটফর্মে রূপ নিতে শুরু করে। তবে বাংলাদেশে যেহেতু ইনস্টাগ্রামের চেয়ে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি, তাই ফেসবুকেই রিলস বেশি দেখা যায়।
টিকটকের মতো রিলসও ব্যবহারকারীদের আচরণ ও পছন্দ বুঝে সে অনুযায়ী ভিডিও দেখাতে থাকে। মূলত টিকটকের 'বিকল্প' হিসেবেই বিশ্বের নানা প্রান্তের কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে রিলস। বিশেষ করে মিলেনিয়াল প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করে তারা এমন একটি অ্যালগরিদম তৈরি করেছে, যার ফলে কনটেন্ট সুপারিশের (সাজেশন) ক্ষেত্রে এটি নেটফ্লিক্সের চেয়েও এগিয়ে আছে বলে মনে করেন অনেকে।
বর্তমানে মানুষের সময় এবং ধৈর্য—দুটোই কমেছে। যে কারণে দীর্ঘ ভিডিওর বদলে ছোট আকারের ভিডিও দেখতেই সবাই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। মিলেনিয়ালদের একটি বড় অংশই এখন ছোট কনটেন্টের দিকে ঝুঁকছে। লম্বা ভিডিও দেখার ধৈর্য যেমন থাকে না, তেমনি দ্রুত উপভোগ করা যায় এমন কনটেন্টই তাদের কাছে বেশি আকর্ষণীয়। আর এখানেই গুরুত্ব পায় রিলস।
নেটফ্লিক্স বা অন্য কোনো স্ট্রিমিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় একটি সমস্যা হলো—অসংখ্য কনটেন্টের ভিড়ে ঠিক কোনটি দেখা হবে তা বেছে নেওয়া। মাসিক সাবস্ক্রিপশন দিয়ে বিপুল কনটেন্ট পাওয়া গেলেও অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করেও দেখার মতো নির্দিষ্ট কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। ঠিক এই জায়গাতেই সহজ সমাধান হয়ে উঠেছে রিলস। এখানে নির্দিষ্ট কোনো কনটেন্ট বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং ব্যবহারকারী শুধু স্ক্রল করেই নিজের পছন্দমতো নানা ধরনের ছোট ভিডিও দেখতে পারেন। ফলে বিনোদন পাওয়ার প্রক্রিয়াটি হয় দ্রুত ও সহজ। এ কারণেই রিলস এখন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর চেয়েও বেশি জনপ্রিয়।
মেটা প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষ দিকে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক মিলিয়ে প্রতিদিন ১৪০ বিলিয়নের বেশি রিলস 'প্লে' হয়েছে। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সাম্প্রতিক অনুমান বলছে, ২০২৫ সালে প্রতিদিন প্রায় ২০০ বিলিয়ন রিলস ভিউ হচ্ছে।
আশফাকুর রহমান একজন এনজিওকর্মী। রিলসের ওপর তার নির্ভরতা এতই বেড়ে গেছে যে, রিলস না দেখলে তার ঘুম আসে না। তিনি বলেন, 'মাঝে মাঝে ফোন দূরে সরিয়ে রেখে জলদি ঘুমানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ঘুম আসে না। শেষমেশ আবার ফোন হাতে নিয়ে রিলস দেখা শুরু করি। জানি এটা অস্বাস্থ্যকর, কিন্তু আমার শরীর এখন এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে গেছে। যেদিন অনেক ক্লান্ত থাকি, সেদিন হয়তো রিলস ছাড়াই ঘুমাতে পারি।'
দীর্ঘ সময়ের রিলস আপলোড করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে
এদিকে এখন অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের পণ্য প্রচারের জন্য রিলস ব্যবহার শুরু করেছে, বিশেষ করে মিলেনিয়ালদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। নতুন নতুন প্ল্যাটফর্ম আসা-যাওয়া করলেও তরুণদের বড় একটি অংশ এখানেই দীর্ঘ সময় কাটান। ফলে এই শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য এটি বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।
কোনো পণ্য বা ব্যক্তিকে নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে মাত্র ২০ সেকেন্ডের একটি রিলস। কম সময় নেয় বলেই এটি আজ বেশি জনপ্রিয়। তবে ব্যবহারকারীদের চাহিদা মাথায় রেখে এখন তুলনামূলক দীর্ঘ সময়ের রিলস আপলোড করার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও সোশ্যাল মিডিয়া স্পেশালিস্ট মুশফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, মেটা এখন রিলসের দৈর্ঘ্য বাড়াচ্ছে। কারণ কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে হয়তো একটি বিজ্ঞাপন (অ্যাড) আসতে পারে; কিন্তু ভিডিও বড় হলে দুই-তিনটি বিজ্ঞাপন দেওয়া সম্ভব। আর এ জন্যই রিলসের দৈর্ঘ্য বাড়ছে। এখন ১০ সেকেন্ডের পাশাপাশি দুই-তিন মিনিটের ভিডিও আপলোড করা যাচ্ছে।
বিনোদন, তথ্য ও অংশগ্রহণ—এই তিনের সমন্বয়ে তৈরি কনটেন্টগুলো শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাইকে আকৃষ্ট করছে। এটি অনুসারী বাড়ানোর পাশাপাশি দর্শকদের সঙ্গে দ্রুত সংযোগ তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছে। ডেটা ড্রিভেন মার্কেটিং নিয়ে কাজ করা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম 'ডিমান্ডসেজ' এ বছর জানুয়ারি মাসে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রতিদিন ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক মিলিয়ে ২০০ বিলিয়নের বেশি রিলস দেখা হয় এবং সাধারণ ভিডিও পোস্টের তুলনায় এতে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি 'ইন্টারঅ্যাকশন' পাওয়া যায়।
তবে আমরা যত বেশি নিজেদের সাথে সম্পর্কিত কনটেন্ট দেখি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন ততোই বাড়ছে বলে আলোচনা থাকলেও মুশফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, 'আমাদের সার্চবারের তথ্য বিশ্লেষণ করেই ফেসবুক, ইউটিউব বা রিলস আমাদের কনটেন্ট দেখায়। অনেক সময় আমরা ভাবি আমাদের কথা শুনে বুঝি সাজেশন দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের মোবাইলেই অনেক অপশন আছে, যার মাধ্যমে এই অ্যাকসেসগুলো বন্ধ রাখা যায়।'
তবুও স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের এই যুগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা যে কিছুটা হলেও কমেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আর এর সঙ্গে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত হয়েছে, তখন সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বোঝা আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে তিনি জানান।
মূলত কনটেন্টগুলো এমনভাবে তৈরি, যেন মানুষ বারবার স্ক্রল করতে থাকে এবং চারপাশের বাস্তবতা ভুলে যায়। এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো আমাদের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে সব জানে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তারা এমন পণ্য বা সেবা সামনে তুলে ধরে, যা আমরা কিনতে আগ্রহী হতে পারি। ফলে প্রায়ই 'ইমপালস বাইং' বা অনাকাঙ্ক্ষিত কেনাকাটার ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রুবাইয়াৎ জাহান বলেন, 'রিলস দেখে শুধু কেনাকাটাই নয়, ভিডিওতে দেখানো জায়গায় আমরা ঘুরতেও চলে যাই। অনেক নতুন জায়গা খুঁজে পাই। রিলস একাকীত্ব কাটায় অনেকটাই। জ্যামে আটকে থাকলে টেক্সট করার মতো পরিস্থিতি থাকে না, কিন্তু রিলসের ছোট্ট ভিডিওগুলো কয়েক সেকেন্ডেই দেখে ফেলা যায়।'
রিলসের অ্যালগরিদম আমাদের পছন্দের মতোই কনটেন্ট দেখাতে থাকে, ফলে আমরা একই ধরনের বৃত্তের মধ্যে আটকে থাকি। এতে ভিন্নধর্মী ভাবনার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ কমে যায়।
যোগাযোগ ও বিচ্ছিন্নতা—দুই-ই ঘটছে
রিলস যেমন বিনোদন দিতে পারে, তেমনি এটি চিন্তাউদ্দীপক বা শিক্ষামূলকও হতে পারে। স্বাস্থ্য টিপস, ভাষা শেখা, রান্না, ক্রাফটিং, সংবাদ কিংবা ইতিহাসের মতো বিষয়গুলো কম সময়েই আমাদের অনেক কিছু শেখাচ্ছে। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস স্ক্রল করা চোখ ও মস্তিষ্ক—উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ডা. ইসমাত জাহান এ ব্যাপারে বলেন, 'রিলস আমাদের একটার পর একটা ভিডিও দেখিয়ে আচ্ছন্ন এবং বিচ্ছিন্ন (আইসোলেটেড) করে ফেলে। সোশ্যাল মিডিয়া আসার পর আমরা এমনিতেই সরাসরি দেখা করা বা ফোনে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছি। ফেসবুকে অন্তত একে অপরের পোস্ট পড়ে জানা যেত কার জীবনে কী ঘটছে। কারও বিপদ হলে তাকে একটা ফোন করা বা দেখে আসার সুযোগ থাকত। কিন্তু রিলসের আসক্তিতে মানুষ এখন মেসেঞ্জারেও আর সময় কাটায় না। ফলে আত্মীয়স্বজন কে কেমন আছে, কেউ বিপদে আছে কি না—সেটুকুও আর জানা হয় না।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'রিলস দিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করা গেলেও এটি কখনোই শব্দ, বই বা সরাসরি কথোপকথনের বিকল্প হতে পারে না। আমরা হয়তো দিনে ১০০টি রিলস দেখছি, কিন্তু এর সবগুলো নিশ্চয়ই সবাইকে পাঠাই না। আর যাদের রিলস পাঠাই, তাদের সাথে আমাদের এমনিতেই যোগাযোগ থাকে। রিলস দেখে আমরা হয়তো আনন্দ পাই বা আবেগপ্রবণ হই, কিন্তু এটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত বা গভীর যোগাযোগ নয়।'
