ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধে ফেসবুকে প্রচারণা, অনুমতি নেই বলছে স্কুল কর্তৃপক্ষ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দর্শকপ্রিয় সিনেমা 'বনলতা এক্সপ্রেস'-এর প্রদর্শনী বন্ধে ফেসবুকে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন আয়োজকরা। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টায় জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিল 'ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি'। তবে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই প্রদর্শনীর বিরোধিতা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আয়োজকরা অনুমতি পাওয়ার দাবি করলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা কোনো অনুমতি দেয়নি।
আয়োজক সংগঠন 'ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি' মূলত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত জেলার শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন। সংগঠনের সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তওজা খন্দকার জানান, গত ২৫ মে পরিচালক তানিম নূরের সঙ্গে আলোচনা করে 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমাটি প্রদর্শনের অনুমতি নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করে বিদ্যালয়ে সিনেমাটি প্রদর্শনের প্রাথমিক অনুমতি পান তারা।
তওজা খন্দকার অভিযোগ করেন, "হঠাৎ করে ছবিটির প্রদর্শনী বন্ধের জন্য কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্যরা ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট শুরু করেন। এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি বাতিল করেছে।"
ঘটনার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা হাফেজ নাসরুল্লাহ মুয়াজ নিজের ফেসবুকে 'বনলতা এক্সপ্রেস' সিনেমা প্রদর্শনীর ফটোকার্ডে লাল ক্রসচিহ্ন দিয়ে একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, 'ব্রাহ্মণবাড়িয়া আলেম-ওলামার শহর। এই শহরে আল্লামা ফখরে বাঙ্গাল (রহ.) একসময় সিনেমা বন্ধ করে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, কিছু কুচক্রী মহল আবারও শহরে সিনেমা চালু করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। সাধারণ ছাত্রসমাজ ও সচেতন জনগণের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাচ্ছি এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আমরা প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি, যাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে।'
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম বলেন, "এমন একটি সংবাদ আমার কানে এসেছে। আমি ছাত্রদের ডেকেছি। তারা কী বলে শুনি।" সিনেমা প্রদর্শনীতে সংগঠনের কোনো বিধিনিষেধ আছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আগে ছাত্ররা আসুক, তারা কী বলে শুনি। তারপর মন্তব্য করতে পারব।"
অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, "সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতির জন্য বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আমার কাছে এসেছিল। কিন্তু আমি অনুমতি দেইনি। যেহেতু ঈদের পর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী হয়। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিনেমা প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।"
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উপদেষ্টা ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল আজবীন বলেন, "আমরা যেভাবেই হোক সিনেমাটি প্রদর্শন করতে চাই। আমরা সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে একটা সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা করছি।"
