দুর্নীতির চেয়েও হয়রানি অনেক সময় বেশি ক্ষতিকর: হোসেন জিল্লুর
দুর্নীতির চেয়েও হয়রানি অনেক সময় বেশি ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান।
তিনি বলেন, 'দুর্নীতির চেয়েও হয়রানি অনেক সময় বেশি ক্ষতিকর। একটি ব্যবসায়ী কোনো পারমিশন বা অনুমোদন পেতে চাইলে সে প্রক্রিয়ার জটিলতা, ধাপ-ধাপে বিলম্ব এবং অসঙ্গতিপূর্ণ নিয়ম-কানুনের কারণে বাধার সম্মুখীন হয়। এই ধরনের হয়রানি শুধু ব্যক্তিগত অসুবিধা নয়; এটি একটি স্ট্রাকচরাল ফিচার।'
সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) কার্যালয়ে 'রিভাইভিং প্রাইভেট সেক্টর-লেড ইকোনমিক গ্রোথ: ক্রিটিক্যাল ইস্যুস অ্যান্ড প্রায়োরিটিজ ফেসিং দ্য নিউ গভর্নমেন্ট ইন বাংলাদেশ'- শীর্ষক প্রকাশনা উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় হোসেন জিল্লুর বলেন, 'দেশের উন্নয়নের জন্য শুধু সংকট সামলানো যথেষ্ট নয়; দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তর অপরিহার্য।'
তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশের সামনে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত রূপান্তরের প্রয়োজন রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে জ্বালানি খাতের কথা বলা যায়। আমরা সমুদ্রসীমা নির্ধারণে সফলতা পেয়েছি এবং সমুদ্র বিজয় নিয়ে অনেক সেমিনার করেছি। কিন্তু আফসোস গ্যাস অনুসন্ধানে তেমন কাজ হয়নি। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কাজগুলো করা জরুরি।'
প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, 'প্রতিষ্ঠান বিশ্লেষণে তিনটি দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন—দুর্নীতি, সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা। শুধু দুর্নীতির লেন্স দিয়ে দেখা যথেষ্ট নয়। একটি প্রতিষ্ঠান তার দৈনন্দিন কাজ কতটা দক্ষতার সঙ্গে করতে পারছে—এটাই প্রকৃত সক্ষমতা।'
তিনি আরও বলেন, 'একই সঙ্গে অনুমতি পাওয়ার জন্য বারবার দৌড়ানো একটি কাঠামোগত সমস্যা। আমাদের উন্নয়নের গতি বাড়াতে সক্ষমতা বাড়ানো, তথ্য ব্যবহার ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি।'
বাংলাদেশের গতির উদাহরণ দিয়ে হোসেন জিল্লুর বলেন, '১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মাথাপিছু আয়ের অবস্থান প্রায় কাছাকাছি ছিল। আজ আমাদের অবস্থান কোথায়, এটি মূলত গতির প্রশ্ন। যদি আমরা ধীরে ধীরে এগোই, তাহলে লক্ষ্য অর্জনে একশো' বছর লেগে যাবে।'
প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিয়ে 'ফরেনসিক অডিট' করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন এই অর্থনীতিবিদ।
তিনি বলেন, 'একটি প্রতিষ্ঠানকে বোঝার জন্য শুধু দুর্নীতির দিকে তাকালে হবে না। ইনস্টিটিউশনকে তিনটি লেন্স দিয়ে দেখতে হবে—করাপশন, ক্যাপাসিটি ও হয়রানি।'
