নির্বাচনের আগে অনলাইন অপপ্রচারের ৭৪ শতাংশই ছিল রাজনৈতিক ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক: ইউএনডিপি
বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে বিশ্লেষণ করা অনলাইন অপপ্রচারের ৭৪ শতাংশেরও বেশি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এগুলো লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে উসকে দিয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীতে আয়োজিত 'বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬'-এ ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি)-র চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার আন্দ্রেস ডেল কাস্তিলো সানচেজ এই সতর্কবার্তা দেন।
কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় সানচেজ বলেন, নির্বাচনের আগের মাসগুলোতে অপপ্রচার ও ঘৃণামূলক বক্তব্যের প্রসার তীব্রতর হয়েছিল, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল কারসাজির প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, "বিশ্লেষণ করা কন্টেন্টের ১৬ শতাংশ ছিল ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং ৪৯ শতাংশ ছিল ভুল তথ্য। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশের বেশি ছিল রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট এবং প্রযুক্তিগতভাবে এগুলো লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাত বা বৈষম্যকে শক্তিশালী করেছে।"
সানচেজ উল্লেখ করেন, গবেষকরা গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত অনলাইনে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ভুল তথ্যের বিশেষ ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করেছেন, যা মূলত দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। তিনি বলেন, "আমরা বর্তমানে এ বিষয়ে একটি বিশদ বিশ্লেষণ তৈরি করছি, কারণ দেশের রাজনৈতিক আন্দোলন ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টিকে গভীরভাবে বোঝা প্রয়োজন।"
তিনি আরও যোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে উত্তেজনাকর সময়ে ঘৃণামূলক বক্তব্য ও ভুল তথ্য ব্যাপকভাবে বাড়লেও নির্বাচনের ঠিক আগের কয়েক দিনে এ ধরনের কন্টেন্টের পরিমাণ কিছুটা কমে গিয়েছিল।
অপপ্রচার অভিযানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের বিষয়েও বিশেষ সতর্কতা জারি করেন সানচেজ। তিনি বলেন, এআই-উত্পাদিত কন্টেন্ট তথ্যের ওপর জনগণের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে এবং ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে।
সানচেজ বলেন, "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি এসব পোস্ট তথ্যের নির্ভরযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সঠিক তথ্য জেনে ভোটারদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করছে।"
সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে বর্তমান ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও অপপ্রচার রোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
