বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিধ্বস্ত করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশাল জয়
জস বাটলার ভাবতেই পারেন, একই পিচ দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট করার সময় ছিল ব্যাটিং পিচ, ইংল্যান্ড ব্যাট করতে নেমে সেটিই হয়ে গেছে বোলিং পিচ! বাটলারকে অবশ্য দোষও দেওয়া যাবে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ দেখা যে কেউ হয়তো একই কথাই বলবেন।
মুম্বাইয়ের ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকা স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। প্রোটিয়াদের ব্যাট-বলের ধারের সামনে ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়তে পারেনি জস বাটলারের দল। ইংল্যান্ডকে ২২৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা হেরেছিল নেদারল্যান্ডসের কাছে, ইংল্যান্ড অঘটনের শিকার হয়েছে আফগানিস্তানের কাছে হেরে। দুদলই ছিল চাপে, তবে ইংল্যান্ডের চাপটাই ছিল বেশি। এই ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা ইংলিশদের জন্য শঙ্কায় পড়ে গেছে।
টসে জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে জস বাটলার বড় ভুলই করেছেন। প্রোটিয়াদের দেওয়া ৪০০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মুখ থুবড়ে পড়ে ইংল্যান্ডের ইনিংস। ৩৮ রান তুলতেই ফিরে যান জনি বেয়ারস্টো, ডেভিড মালান, জো রুট ও বেন স্টোকস। শেষ দুই ভরসা অধিনায়ক বাটলার ও হ্যারি ব্রুকও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ৭০ রানের মধ্যে ইংল্যান্ডের সব স্বীকৃত ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠান মার্কো ইয়ানসেন, জেরার্ল্ড কোয়টজেরা।
লোয়ার অর্ডারে মার্ক উড এবং গাস অ্যাটকিনসন কিছুক্ষণ ঝড় তোলেন। তবে যা হারের ব্যবধান কমিয়েছে শুধু। উড ১৭ বলে পাঁচ ছয় ও দুই চারে করেন ৪৩ রান, অ্যাটকিনসন করেন ২১ বলে ৩৫ রান, তিনি মেরেছেন সাত চার।
শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড অলআউট হয় ১৭০ রানে। ২২৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জেতে দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপে এটি প্রোটিয়াদের তৃতীয় বড় জয়। জেরার্ল্ড কোয়েটজে তিনটি, এনগিদি ও ইয়ানসেন নেন দুটি করে উইকেট। ম্যাচসেরা হন সেঞ্চুরিয়ান হেনরিখ ক্লাসেন।
এই দিনটা ভুলেই যেতে চাইবেন জস বাটলার। তার নেওয়া সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হয়ে ফিরে এসে ক্ষত-বিক্ষত করেছে ইংল্যান্ডকে। মুম্বাইয়ের ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রচন্ড গরমের মাঝে ইংলিশ বোলারদের কচুকাটা করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। হেনরিখ ক্লাসেন ও মার্কো ইয়ানসেনই বেশি পিটিয়েছেন উড-উইলিদের।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভার খেলে সাত উইকেট হারিয়ে ৩৯৯ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। জিততে হলে বিশ্বকাপে রান তাড়া করার রেকর্ড গড়তে হতো ইংল্যান্ডকে। যার ধারেকাছেও যেতে পারেনি তারা।
ইনিংসের প্রথম বলেই চার, পরের বলে বাটলারকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কুইন্টন ডি কক। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নিজেদের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ১২১ রানের জুটি গড়েন টেম্বা বাভুমার জায়গায় নামা রিজা হেন্ড্রিকস ও রাসি ভ্যান ডার দুসেন। ব্যক্তিগত ৬০ রান করে আউট হন দুসেন। ৬১ বলের ইনিংসে আটটি চার মারেন তিনি।
হেন্ড্রিকস আউট হওয়ার আগে ৭৫ বলে নয় চার ও তিন ছয়ে করেন ৮৫ রান। এই ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা মার্করাম ফিরে যান ৪৪ বলে ৪২ রান করে। ডেভিড মিলার খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের মূল তান্ডবলীলা শুরু হয় এরপরই। ক্লাসেন ও ইয়ানসেন মিলে নির্মমভাবে পেটান ইংলিশ বোলারদের। দুজনে গড়েন ৭৫ বলে ১৫১ রানের জুটি।
এর মধ্যে ক্লাসেন তুলে নেন সেঞ্চুরি। মাত্র ৬১ বলে ১২ চার ও চার ছয়ে ১০০ পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ৪২ বলে ৭৫ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন ইয়ানসেন। তিনি মেরেছেন তিনটি চার ও ছয়টি ছয়।
ইংলিশ বোলারদের মধ্যে টপলি ৮৮ রান দিয়ে তিনটি, অ্যাটকিনসন ও রশিদ দুটি করে উইকেট নেন।
