ট্রাম্পের জন্মদিনে পুতিনের ফোন, মস্কো যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূতেরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনে তাকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ সময় তারা ইউক্রেন ও ইরান ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, এই ফোনালাপের পরই ট্রাম্পের শীর্ষ আলোচকেরা মস্কো সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পুতিনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার 'খুব শীঘ্রই' আবার রাশিয়া সফরে আসতে পারেন।
তবে এই দুই মার্কিন দূত বর্তমানে ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। মস্কো তাদের সফরের যে দাবি করেছে, অন্য কোনো সূত্র থেকে তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এমনকি উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেন সফর করবেন কি না, সে বিষয়েও কিয়েভ বা ওয়াশিংটন কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
উশাকভ সাংবাদিকদের বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক নিয়েই ট্রাম্প-পুতিনের মূলত আলোচনা হয়েছে।' ক্রেমলিন আরও জানিয়েছে, দুই নেতার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার থেকে ফ্রান্সের এভিওঁনে শুরু হতে যাওয়া জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। ঠিক এর আগেই মস্কোর এই সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা সামনে এলো।
ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন জেলেনস্কিও
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, রোববার তিনিও ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। জেলেনস্কির কার্যালয় এই ৩০ থেকে ৩৫ মিনিটের ফোনালাপকে 'কূটনীতি এবং যুদ্ধ/শান্তি' বিষয়ক একটি 'তাৎপর্যপূর্ণ' আলোচনা বলে বর্ণনা করেছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জেলেনস্কি লেখেন, 'আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছি এবং আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এর মধ্যে অবশ্যই শান্তি আলোচনার বিষয়টি ছিল।'
তিনি জানান, যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন কীভাবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে, তা তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন।
জেলেনস্কির সঙ্গে ইউক্রেন বিষয়ক একটি ওয়ার্কিং সেশনে অংশ নিতে মঙ্গলবার রাজি হয়েছেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই দুই নেতার মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সূচি নেই।
ইউরোপের উদ্বেগ ও পুতিনের কৌশল
ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তিনি দ্রুত ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের অবসান চান। কিন্তু তিনি ইউক্রেনকে রাশিয়ার কাছে ছাড় দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে বলায় কিয়েভ এবং ইউরোপীয় মিত্ররা ক্ষুব্ধ হয়েছে।
গত বছর হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে জেলেনস্কিকে প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করেছিলেন ট্রাম্প, যা ইউরোপীয় দেশগুলোকে উদ্বিগ্ন করেছিল। সেই ঘটনার পর থেকে জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন রয়ে গেছে।
অন্যদিকে পুতিন যেকোনো সমস্যা সমাধানে ইউরোপের ভূমিকা প্রত্যাখ্যান করে সরাসরি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জি-৭ সম্মেলনের ঠিক আগে ক্রেমলিনের এই ঘোষণার মূল উদ্দেশ্যই হয়তো এটি দেখানো যে মস্কোর এখনো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে প্রবেশাধিকার রয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় নেতারা চাইবেন, ওয়াশিংটন যেন আবারও তাদের পাশ কাটিয়ে নিজের মতো করে কোনো চুক্তি করে না বসে।
জি-৭ বিরোধী বিক্ষোভ
কূটনৈতিক এই তৎপরতার মধ্যেই হাজার হাজার জি-৭ বিরোধী বিক্ষোভকারী সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মিছিল করেছেন। অনেক নেতাই এভিওঁনে যাওয়ার আগে জেনেভায় এসে পৌঁছান। বিক্ষোভকারীরা এই সম্মেলনকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার 'অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের' প্রতীক বলে মনে করেন।
মিছিল শুরু হওয়ার সময় পুলিশের হিসাব অনুযায়ী সেখানে প্রায় ৭ হাজার মানুষ ছিল, তবে পরে এএফপির সাংবাদিকরা জানান এই সংখ্যা ১৫ হাজারের কাছাকাছি। এ সময় একটি টেসলা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
