বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রথম নারী চেয়ারম্যান হলেন মীর নাদিয়া নিভিন
বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি সংস্থাটির প্রথম নারী চেয়ারম্যান।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা এক গ্যাজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।
তিনি আসলাম আলমের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন, যিনি গত ২ মার্চ এই পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
মীর নাদিয়া নিভিন এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
তিনি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, স্যাক্রামেন্টো থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনপ্রশাসন বিষয়ে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
২০০৭ সালের আগস্টে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচিতে (ইউএনডিপি) প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে নাদিয়া নিভিনের কর্মজীবন শুরু হয়। প্রায় একই সময়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের সাথেও যুক্ত ছিলেন।
২০০৯ সাল থেকে তিনি জার্মানি দিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি নিউ ইয়র্কে ইউএনডিপি সদর দপ্তরে 'গ্লোবাল ইলেকশনস টিম'-এ যোগ দেন, যেখানে তিনি বিশ্বজুড়ে ইউএনডিপির কান্ট্রি অফিসগুলোকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে নীতি-সহায়তা প্রদান করেন।
২০১৩ সালে তিনি আফগানিস্তানে 'নির্বাচন কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ' হিসেবে কাজ করেন; যেখানে তিনি মূলত নির্বাচন, সংসদীয় বিষয়াবলী, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণের ওপর জোর দেন।
এর পর তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় অঞ্চল এবং খাইবার পখতুনখোয়ায় দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে তিনি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন কর্মসূচিতে কাজ করেছেন।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালে মীর নাদিয়া নিভিন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত হন; সেখানে তিনি দেশটির নির্বাচন কমিশন, সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং দুর্নীতি বিরোধী নীতি নির্ধারণী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যৌথভাবে কাজ করেন।
২০২০ সালের মার্চে নাদিয়া নিভিন মিয়ানমারে জাতিসংঘের কার্যক্রমে যোগ দেন। সেখানে তিনি ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ, আন্তঃসীমান্ত টিকাদান কর্মসূচি এবং জাতিসংঘের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক একটি মানবাধিকার উদ্যোগে কাজ করেন।
দেশের বিমা খাতে সুশাসন জোরদার, কঠোর তদারকি এবং গ্রাহক স্বার্থ বা ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ-র ওপর যখন নানামুখী চাপ ও ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা রয়েছে, ঠিক সেই সময়েই বিমা খাতের শীর্ষ এই পদে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হলো।
