ট্রাম্প প্রশাসনের আকস্মিক গ্রিন কার্ড নীতি পরিবর্তনে বিভ্রান্ত ও উদ্বিগ্ন অভিবাসীরা
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এখন গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের আবেদন প্রক্রিয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করবে — যা একটি ব্যাপক পরিবর্তন এবং এর ফলে বৈধভাবে ও স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পেতে আগ্রহী লাখো মানুষের জীবন ওলটপালট হয়ে যেতে পারে।
গত শুক্রবার ঘোষিত নতুন এক নিয়মে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের স্থায়ী ভিসার জন্য আবেদন করতে নিজেদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।
এই আকস্মিক নীতিগত পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে প্রভাবিত করতে পারে। স্থায়ী বৈধ বসবাসের অনুমতি চাইছেন এমন ব্যক্তিদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হবে — যার ফলে পরিবার বিচ্ছিন্ন হবে, মানুষ চাকরি ছাড়তে বাধ্য হবে এবং বিভিন্ন কমিউনিটি ব্যাহত হবে।
গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করা অত্যন্ত দীর্ঘ ও জটিল একটি প্রক্রিয়া হিসেবে পরিচিত, যা সম্পন্ন হতে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, এই নিয়মে 'ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির' ক্ষেত্রে কিছু ছাড়ের ব্যবস্থা থাকবে বলে সংস্থাটির মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে বলেছেন।
'যখন বিদেশিরা নিজেদের দেশ থেকে আবেদন করেন, তখন যাদের স্থায়ী বসবাসের আবেদন বাতিল হয় এবং পরে তারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাদের খুঁজে বের করা ও অপসারণের প্রয়োজন কমে যায়,' বলেন কাহলার।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ বৈধ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন।
নতুন এই নিয়ম আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। শুক্রবার ঘোষণার পর থেকেই এটি আইনজীবী, আইনপ্রণেতা এবং অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডেলিয়া সি রামিরেজ এক্সে লিখেছেন, এই নীতি 'চরম নিষ্ঠুরতারও বাইরে' এবং তিনি স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগকে 'টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলার' আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এক্সে বলেছেন, নতুন এই নীতি 'এই দেশ গড়ে ওঠার মূল প্রতিশ্রুতির সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।'
অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি গ্রেগ স্ট্যান্টন এক্সে বলেছেন, 'ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবেই বৈধ অভিবাসনকে আরও কঠিন করে তুলেছেন। কর্মভিত্তিক ভিসা কর্মসূচির কারণেই যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ গবেষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়।'
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি টেড লিউ এই নীতিকে 'বোকামিপূর্ণ' বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এটি 'চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে সুবিধা দেবে।'
ক্যাট ইনস্টিটিউটের অভিবাসন বিষয়ক গবেষণার পরিচালক ডেভিড জে বিয়ার একটি ব্লগ পোস্টে এই নীতিকে 'অযৌক্তিক' বলে বর্ণনা করেছেন এবং এর সম্ভাব্য সুদূরপ্রসারী ও ধারাবাহিক প্রভাব তুলে ধরেছেন।
বিয়ার লিখেছেন, 'এটি মেধাবী মানুষদের অন্য দেশে চলে যেতে উৎসাহিত করবে এবং ব্যবসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে কম প্রতিযোগিতামূলক স্থানে পরিণত করবে।'
অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলেও, নতুন এই নিয়মটি দেখাচ্ছে যে প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের পথও সীমিত করার চেষ্টা করছে।
প্রশাসন আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর চেষ্টা করেছে; বিভিন্ন দেশের জন্য অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বাতিল করেছে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ বা অন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনের ভয় ছাড়াই বসবাসের সুযোগ দিয়েছিল; শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের ছাড়া শরণার্থী গ্রহণ বন্ধ করেছে; এবং কাজ ও শিক্ষার্থী ভিসার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
গত বছর ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর প্রশাসন ঘোষণা দেয় যে, 'উদ্বেগজনক' হিসেবে বিবেচিত ১৯টি দেশের নাগরিকদের দেওয়া সব গ্রিন কার্ড পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তবে ওই হামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি, যিনি আফগানিস্তানের নাগরিক, তিনি ২০২১ সালে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন — যা গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়া থেকে আলাদা — এবং ২০২৫ সালে সেই আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
