কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং সম্প্রসারণে এনটিএমসির জন্য ৯৫ কোটি টাকার সরঞ্জাম কিনছে সরকার
কনটেন্ট ব্লক ও ফিল্টারে সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার সরঞ্জাম কিনতে যাচ্ছে সরকার। সীমিত দরপত্র পদ্ধতির মাধ্যমে 'ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার' (এনটিএমসি)-এর জন্য এই সরঞ্জামগুলো কেনা হবে।
গত ২০ মে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ–সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, এনটিএমসির 'কনটেন্ট ব্লকিং ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ (পর্যায়-১)' প্রকল্পের আওতায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি নেক্সট জেনারেশন ফায়ারওয়াল ডিভাইস, দুটি মাল্টি-ফাংশনাল হাইব্রিড প্যাকেট ব্রোকার, তিনটি সুইচ ম্যানেজমেন্ট কার্ড এবং আংশিকভাবে সংযুক্ত ছয়টি ডেটা সেন্টারের আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনা হবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির কাজের অতি-সংবেদনশীল প্রকৃতির কারণে ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমিত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এর মধ্যে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দেয় তিনটি প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে রেসপন্সিভ বা যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পেয়েছে ঢাকার ধানমন্ডিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি। অনুমোদিত দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১-এর আওতায় গঠিত এনটিএমসির কার্যক্রম নিয়ে অতীতে নানা বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংস্থাটির মাধ্যমে নাগরিকদের ওপর নজরদারি ও ফোনে আড়ি পাতার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিকে আইন সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যেখানে নজরদারি ও আড়ি পাতার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের কথা বলা হয়। পরে গত এপ্রিলে বিএনপি সরকার সংশোধিত আইন প্রণয়ন করে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর ৯৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতিতে এনটিএমসি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।
