ইরানে সম্ভাব্য ‘চূড়ান্ত’ হামলার পরিকল্পনা, ট্রাম্পকে ব্রিফ করলেন সেন্টকম কমান্ডার
ইরানে নতুন করে কীভাবে হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। একে সম্ভাব্য 'চূড়ান্ত' হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন নিউজ পোর্টাল অ্যাক্সিওস। সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদক জানান, ৪৫ মিনিটের ওই বৈঠকে ট্রাম্পের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরেন ব্র্যাড কুপার এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
হোয়াইট হাউসের 'সিচুয়েশন রুমে' ট্রাম্পের কাছে এই বিকল্পগুলো তুলে ধরেন ব্র্যাড কুপার। ট্রাম্প যদি আবার ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেন, তবে দেশটিতে একটি 'সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী' হামলা চালানোর ছক কষা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ।
ফক্স নিউজ জানিয়েছে, এই হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ইরানের অবশিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম, শীর্ষ নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির খবর অনুযায়ী, পেন্টাগন এই হামলায় 'ডার্ক ঈগল' নামের একটি নতুন হাইপারসনিক মিসাইলসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবছে। এ ছাড়া এই অঞ্চলে বি-ওয়ানবি ল্যান্সার বোমারু বিমানের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে।
তবে গত বুধবার ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে বলেছিলেন, তিনি ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধকে 'বোমা হামলার চেয়ে বেশি কার্যকর' বলে মনে করছেন।
দুটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, ট্রাম্প বর্তমানে এই অবরোধকেই ইরানের বিরুদ্ধে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। তবে ইরান যদি এরপরও মাথা নত না করে, তবে তিনি সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করবেন।
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পকে ঠিক এভাবেই ব্রিফ করেছিলেন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। ওই ব্রিফিংয়ের ঠিক দুই দিন পরই ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, যুদ্ধ শুরুর ওই সিদ্ধান্তের পেছনে কুপারের ব্রিফিংয়ের বড় ভূমিকা ছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালায় তেহরান; কার্যত বন্ধ রাখে হরমুজ প্রণালিও।
পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এরপর ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
