ট্রাম্প এখন বিশ্বের প্রতি ১৩ দেশের ১টিতে হামলা করেছেন বা হামলার হুমকি দিয়েছেন
প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় অত্যন্ত আনন্দের সাথে তার প্রতিপক্ষদের 'যুদ্ধবাজ' বলতেন। তিনি দাবি করতেন, তারা ক্ষমতায় গেলে যুক্তরাষ্ট্রকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ নানা ধরণের বিদেশি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প নিজেই এমন এক দীর্ঘ তালিকা তৈরি করেছেন, যেখানে থাকা দেশগুলোকে তিনি হয় হুমকি দিয়েছেন, অথবা সরাসরি সেখানে হামলা চালিয়েছেন।
গত বুধবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন এক নাম— ওমান। ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ওমান ইরানের সাথে মিলে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে সেখানে হামলা চালানো হবে। হোয়াইট হাউসের এক ক্যাবিনেট বৈঠকে তিনি বলেন, 'ওমানকেও সবার মতো আচরণ করতে হবে, অন্যথায় আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে।'
বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল কারণ ট্রাম্প কথাটি বেশ অনায়াসেই বলেছেন, যেন এটি খুব সামান্য কোনো বিষয়। তার দুই মেয়াদের শাসনামলে এটি এখন নিয়মিত একটি ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
চলতি মেয়াদে ট্রাম্প এ পর্যন্ত সাতটি দেশে হামলা চালিয়েছেন— ইরান, ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেন। এর মধ্যে প্রথম মেয়াদেও কয়েকটি দেশে তিনি আক্রমণ করেছিলেন। এই হিসাবের বাইরে রয়েছে ক্যারিবিয়ান সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালানকারী সন্দেহে প্রায় ৬০টি নৌযানে হামলা, যাতে ১৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
এছাড়া চলতি মেয়াদে আরও সাতটি দেশের বিরুদ্ধে তিনি হামলার হুমকি দিয়েছেন অথবা সম্ভাবনা খোলা রেখেছেন: কানাডা, কলম্বিয়া, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড (যা ডেনমার্কের অংশ), মেক্সিকো, পানামা এবং সবশেষে ওমান। প্রথম মেয়াদে তিনি মেক্সিকো ও উত্তর কোরিয়াকেও হুমকি দিয়েছিলেন।
সম্প্রতি ওমানকে নিয়ে দুই মেয়াদে অন্তত ১৫টি দেশকে হয় ট্রাম্প হামলার হুমকি দিয়েছেন, অথবা হামলার সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছেন কিংবা সরাসরি আক্রমণ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় সব ঘটনাই ঘটেছে তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৬ মাসের মধ্যে।
অবশ্য এই সব হুমকি বা হামলা একই ধরণের নয়। যেমন—ইরাকে চালানো হামলাগুলো মূলত সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে ছিল, দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে নয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে হুমকিগুলো সরাসরি ছিল না; ট্রাম্প কেবল হামলার সম্ভাবনা নাকচ করতে রাজি হননি।
ট্রাম্পের এই পররাষ্ট্রনীতিকে অনেকে 'ম্যাডম্যান থিওরি' [উন্মাদ নীতি] দিয়ে ব্যাখ্যা করেন। অর্থাৎ, তিনি নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন যেন তার পরবর্তী পদক্ষেপ কেউ অনুমান করতে না পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, এতে বিদেশি শত্রুরা তার দাবি মানতে বাধ্য হবে।
কিন্তু এসবের মধ্য দিয়ে একজন যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্টের চেহারা ফুটে ওঠে, যিনি এ বছরই দুটি দেশ (ইরান ও ভেনেজুয়েলা) আক্রমণ করেছেন এবং তৃতীয় একটি দেশে (কিউবা) আক্রমণের কথা ভাবছেন।
প্রতি ১৩টি দেশের মধ্যে ১টি
বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের মধ্যে ১৫টি দেশকে ট্রাম্প এ পর্যন্ত হুমকি দিয়েছেন বা আক্রমণ করেছেন। অর্থাৎ প্রতি ১৩টি দেশের মধ্যে ১টি এখন তার নিশানায়।
প্রতি ১১ জন মানুষের মধ্যে ১ জন
ট্রাম্পের নিশানায় থাকা দেশগুলোতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রতি ১১ জনের মধ্যে ১ জন বাস করেন। এর মানে হলো, পৃথিবীর প্রতি ১১ জন মানুষের মধ্যে ১ জন অন্তত কিছুটা হলেও এই দুশ্চিন্তায় আছেন যে ট্রাম্প যেকোনো সময় তাদের দেশে সামরিক হামলা চালাতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ৫ দেশ
ট্রাম্প এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যেই পাঁচটি দেশকে হুমকি দিয়েছেন বা লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের মোট ২০টিরও কম দেশের মধ্যে এটি একটি বিশাল অংশ।
৪টি মহাদেশ
ট্রাম্পের হুমকি ও হামলা বিশ্বের জনবহুল ছয়টি মহাদেশের চারটিতেই বিস্তৃত: আফ্রিকা, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা। গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলে তিনি কার্যত ইউরোপকেও হুমকির মুখে রেখেছেন।
সাম্রাজ্য বিস্তারের ৫টি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু
আক্রান্ত বা হুমকি দেওয়া ১৫টি দেশের মধ্যে ৫টিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুক্ত করার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই তালিকায় আছে কানাডা, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড, পানামা (বিশেষ করে পানামা খাল) এবং ভেনেজুয়েলা।
