ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠানোর’ হুমকির পর আরও বাড়ল তেলের দাম, শেয়ারবাজারে দরপতন
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ বৈশ্বিক তেলবাজারকে আশ্বস্ত করতে পারেনি যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সমস্যা শিগগিরই সমাধান হবে। ফলে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম।
ভাষণ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলার। ভাষণ চলাকালে দামে ওঠানামা দেখা গেলেও বর্তমানে তা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রাইমটাইম ভাষণে ট্রাম্প বলেন, 'আজ রাতে আমি সন্তুষ্টির সঙ্গে বলতে পারি, আমাদের মূল কৌশলগত লক্ষ্যগুলো প্রায় পূর্ণতার পথে।'
ট্রাম্প বলেন, 'আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহে আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত তীব্র আঘাত হানব। আমরা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব, যেখানে তাদের থাকার কথা।'
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণ বিশ্ব তেলের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌপথ খুব শীঘ্রই স্বাভাবিক হবে—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস এই ভাষণ থেকে মেলেনি।
ভাষণে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, যেসব দেশের মধ্যপ্রাচ্যের তেলের প্রয়োজন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ উন্মুক্ত রাখার ক্ষেত্রে এখন তাদেরই প্রধান ভূমিকা নিতে হবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়।
বর্তমানে ইরান এই জলপথটি কার্যকরভাবে বন্ধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তেলের দাম সংঘাত শুরু হওয়ার আগের তুলনায় এখনো অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ খুব একটা কাটেনি।
এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে দরপতন
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের পর এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে সূচকের পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে দিনের শুরুর দিকের ইতিবাচক ধারাটি উল্টো দিকে মোড় নিল।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৫ শতাংশ কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ২.৬ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এই অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলোতে ব্যাপক অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া জ্বালানি সরবরাহের জন্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে এই সংঘাতের প্রভাবে এই অঞ্চল বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই মূলত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শেয়ারবাজারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতার আভাস মিলছে।
ডাও জোন্স ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচারস প্রায় ০.৭ শতাংশ কমেছে, আর নাসডাক ফিউচারস প্রায় ১ শতাংশ নিচে নেমেছে।
