হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের ‘ঝিমুনি’: ‘কমান্ডার-ইন-স্লিপ’ বলে উপহাস করল ডেমোক্র্যাটরা
ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন চলাকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চোখ বন্ধ করে 'ঘুমিয়ে পড়েছেন' বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পকে 'দ্য কমান্ডার-ইন-স্লিপ' উপাধিতে ভূষিত করে তীব্র উপহাস করছে ডেমোক্র্যাটরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে 'ক্লিন কোল' বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) প্রশাসক লি জেলডিন এবং ইন্টেরিয়র সেক্রেটারি ডগ বারগাম যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার চেয়ারে হেলান দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে 'তন্দ্রাচ্ছন্ন' অবস্থায় দেখা গেছে বলে দাবি বিরোধীদের।
ট্রাম্পের এই ঝিমুনির সুযোগ লুফে নিতে দেরি করেনি ডেমোক্র্যাট শিবির ও লিবারেলরা। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাঙ্গাত্মকভাবে বলা হয়, 'দ্য কমান্ডার-ইন-স্লিপ ডিউটিতে যোগ দিয়েছেন।'
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুলের প্রেস অফিস থেকে মন্তব্য করা হয়, 'লি জেলডিনের কথা শোনার চেয়ে ঘুমানো অনেক ভালো।'
অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের টিম লিখেছে, 'ডোজি ডন (ঝিমুনি ডন) ফিরে এসেছেন।'
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনও এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রায়ই জো বাইডেনকে 'স্লিপি জো' বলে কটাক্ষ করতেন। হান্টার বাইডেন উপহাস করে লিখেছেন, 'দেখুন... আমি তো আগেই বলেছিলাম ওটা একটা ক্লোন। তারা মনে হয় ব্যাটারি চার্জ দিতে ভুলে গেছে।'
তবে হোয়াইট হাউস এই অভিযোগ অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউস র্যাপিড রেসপন্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি প্রগ্রেসিভ অ্যাকাউন্টের পোস্টের জবাবে লেখা হয়, 'তোমরা যারা এসব বলছ, তোমাদের পোস্ট করা ক্লিপেই দেখা যাচ্ছে তার চোখ খোলা রয়েছে।'
এর আগে গত ১১ মে-ও ট্রাম্পের চোখ বন্ধ করা একটি ছবি নিয়ে একই বিতর্ক উঠেছিল। সে সময় হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল প্রেসিডেন্ট কেবল 'চোখ পিটপিট' করছিলেন। এবারও 'হেডকোয়ার্টার্স' নামক অ্যাকাউন্টটি যখন ট্রাম্পের ঘুমিয়ে পড়ার দাবি করে, তখন হোয়াইট হাউস সেটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়।
এই ঘটনাটি ট্রাম্পের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ জোনাথন রেইনার একে 'অস্বাভাবিক' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক শারীরিক পরীক্ষায় তার ঘুমের ব্যাঘাতের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এটা মোটেও স্বাভাবিক নয়।'
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ টেড লিউ দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সুস্থ নন। তিনি বলেন, 'তিনি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এবং ক্যাবিনেট মিটিংয়ে জেগে থাকতে পারছেন না। হোয়াইট হাউসের পরিষ্কার করা উচিত কেন ট্রাম্পকে বারবার হাসপাতালে যেতে হয় এবং ডাক্তাররা কেন তাকে বারবার কগনিটিভ টেস্ট (মানসিক সক্ষমতা যাচাই) দিচ্ছেন।' লিউ আরও যোগ করেন, কোনো কোম্পানির সিইও যদি বোর্ড মিটিংয়ে এভাবে ঘুমিয়ে পড়তেন, তবে তাকে বরখাস্ত করা হতো।
বুধবার এক শুনানিতে টেড লিউ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান, রুবিও কি ট্রাম্পকে কখনো কোনো বৈঠকে ঘুমিয়ে পড়তে দেখেছেন কি না। জবাবে রুবিও বলেন, 'আমি তাকে কখনোই ঘুমাতে দেখিনি। বরং তিনি একদমই ঘুমান না।'
তবে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক ড. শন বারবাবেলা সম্প্রতি এক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জানিয়েছেন, ট্রাম্প 'চমৎকার স্বাস্থ্যের' অধিকারী এবং তার হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও স্নায়বিক অবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী।
