ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি: গ্রাহকদের বিক্ষোভ; পুলিশের লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন সাধারণ গ্রাহকেরা। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল এবং জলকামান ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আজই নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের ব্যাংকটিতে প্রথম যোগদানের কথা রয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে সকাল থেকেই 'সচেতন গ্রাহক ফোরাম'-এর ব্যানারে শত শত গ্রাহক ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে মানববন্ধন শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, সদ্য নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপ 'এস আলমে'র ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
গ্রাহকদের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং জলকামান থেকে পানি ছিটিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।
এসময় আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ডিএমপির মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে কয়েকশ গ্রাহক ভোর থেকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান করছিল। তারা ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান যাতে যোগদান করতে না পারে সেই দাবি জানাচ্ছিল। তাদের দাবি, এই চেয়ারম্যান যোগদান করলে তাদের আমানত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা তাদের সরে যেতে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করেনি। পরে সকাল সোয়া ৯টার দিকে আমরা জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে তারা ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে সরে আশপাশের অলিগলিতে অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ঘেরাও (কর্ডন) করে রেখেছে।'
উল্লেখ্য, খুরশীদ আলম বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন।
