ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্রেতা সংকটে সড়কে ফেলে যাওয়া চামড়া অপসারণ করল পৌরসভা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্রেতা সংকটে পড়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ফেলে যাওয়া কোরবানির পশুর শত শত চামড়া অপসারণ করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় জেলা শহরের টি. এ. রোড এলাকা থেকে এসব চামড়া সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে সড়কটি দুর্গন্ধমুক্ত করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়েছে।
স্থানীয় ও পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার দিন দুপুরের পর থেকেই মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পশুর চামড়া নিয়ে শহরের টি. এ. রোডে জড়ো হতে থাকেন। তবে বাজারে কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েন তারা। সারারাত অপেক্ষা করেও চামড়া বিক্রি করতে না পেরে শুক্রবার সকালে কয়েক শ চামড়া সড়কের ওপর স্তূপ করে ফেলে রেখে চলে যান ব্যবসায়ীরা।
এদিকে দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়ে থাকায় অধিকাংশ চামড়ায় পচন ধরতে শুরু করে। এতে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
খবর পেয়ে সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কাউসার আহমেদের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এসকেভেটর ও ট্রাক্টর নিয়ে চামড়া অপসারণ কাজ শুরু করেন।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কাউসার আহমেদ জানান, 'আমরা দিনভর চামড়ার মালিকদের খোঁজ করেছি। কিন্তু কাউকে না পেয়ে এবং জনদুর্ভোগ বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় চামড়াগুলো অপসারণ করা হয়েছে। এগুলো জনবসতিহীন স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হবে।'
এদিকে, ক্ষুব্ধ মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চামড়া বাজার এখন সিন্ডিকেটের দখলে। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তারা প্রতিটি চামড়া গড়ে ৫০০ টাকায় কিনলেও বাজারে এর দাম ২০০ টাকাও উঠছে না। বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে বাধ্য হয়েই তারা চামড়া রাস্তায় ফেলে গেছেন।
উল্লেখ্য, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, এবার ঈদুল আজহায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ লক্ষ ৬৯ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল। জেলার প্রায় ১৫ হাজার খামারি কোরবানির জন্য পশু লালনপালন করেছিলেন। তবে চামড়ার ন্যায্যমূল্য না থাকায় শেষ পর্যন্ত সংকটে পড়লেন ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
