ঈদের দিনে ফাঁকা গাবতলী, অলস সময় কাটাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকেরা
পবিত্র ঈদুল আজহার দিন রাজধানীর গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনালে যাত্রীর তেমন কোনো চাপ নেই। সকাল থেকেই টার্মিনালের অধিকাংশ কাউন্টার ছিল ফাঁকা। যাত্রী না থাকায় পরিবহন শ্রমিক ও কাউন্টারকর্মীদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সরেজমিনে গাবতলীতে গিয়ে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চলগামী কিছু বাস চলাচল করলেও যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম। অনেক বাস নির্ধারিত সময়ের পরও আসন খালি রেখেই গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও যাত্রী পাওয়ার আশায় পরিবহন শ্রমিকদের হাঁকডাক করতে দেখা গেছে।
স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঈদের দিন বাড়িতে যাচ্ছেন আবদুল মোমিন। কাঁচপুর থেকে গাবতলীতে এসেছেন তিনি। আসনপ্রতি ১ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে হানিফ পরিবহনের টিকিট কেটেছেন।
ঠাকুরগাঁওগামী এই যাত্রী বলেন, 'আমি ও আমার স্ত্রী দুজনেই গার্মেন্টসে চাকরি করি। ২৬ তারিখ থেকে ছুটি পেয়েছি, ৬ তারিখ অফিস খুলবে। বাচ্চা নিয়ে আগে গেলে যানজট ও বৃষ্টিতে কষ্ট হতো, তাই আজ যাচ্ছি। এখন রাস্তায় কোনো যানজট নেই।'
ঈগল পরিবহনের এক কাউন্টারে টিকিট বিক্রির দায়িত্বে থাকা জয়ন্ত রায় জানান, ঈদের দিন যাত্রী একেবারেই কম। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খুলনাগামী বাসের মাত্র তিনটি টিকিট বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, 'হয়তো সাভার কাউন্টার থেকে কিছু যাত্রী পাওয়া যেতে পারে।'
রাবেয়া পরিবহনে পরিবার নিয়ে কুষ্টিয়া যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। প্রতি আসন ৬০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটলেও, যাত্রী কম থাকায় বাস ছাড়তে দেরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ইব্রাহিম বলেন, 'কাউন্টার থেকে জানিয়েছে সব আসন পূর্ণ হলেই বাস ছাড়বে। এখন কখন যাত্রী পূর্ণ হবে, সেই অপেক্ষায় আছি। গতকাল ছুটি পেয়েছি, তাই আজ ঈদের দিন রওনা হয়েছি।'
এদিকে বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন গরু ব্যবসায়ীকে কুষ্টিয়া ফেরার জন্য শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
তারা জানান, প্রতি আসন ৯০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছেন, তবে বাস ছাড়ার জন্য আসন পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষা চলছে।
পরিবহনসংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের আগের দুই দিনেই অধিকাংশ মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় ঈদের দিন টার্মিনালে চাপ অনেকটাই কমে গেছে।
