সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি চোখ ভেদ করে মাথায়, আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে শিশু রেশমি
চট্টগ্রামের রৌফাবাদে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত ১১ বছর বয়সী শিশু রেশমি আক্তারের শারীরিক অবস্থা এখনও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তার মাথার ভেতরে আটকে থাকা গুলি অপসারণে অস্ত্রোপচার করা হলে জীবনঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড।
শনিবার (৯ মে) সকালে অনুষ্ঠিত মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকে রেশমির অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, গুলিটি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করে মাথার পেছনের দিকে আটকে আছে। বর্তমানে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচার করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও স্নায়বিক জটিলতার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। তাই আপাতত তাকে জীবনরক্ষামূলক বা 'সাপোর্টিভ কেয়ার' দেওয়া হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন টিবিএসকে বলেন, 'রেশমির অবস্থা আশঙ্কাজনক। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপাতত অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে না। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।'
চিকিৎসকেরা জানান, গুলিটি রেশমির বাঁ চোখ দিয়ে প্রবেশ করে মাথার গভীরে গিয়ে পেছনের দিকে আটকে আছে। গুরুত্বপূর্ণ স্নায়বিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যেকোনো কাটাছেঁড়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
শনিবার রাতে রেশমির ভাই ফয়সাল আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, 'সকালে মেডিক্যাল বোর্ড বসেছিল। ডাক্তাররা বলছেন অবস্থা গুরুতর। গুলিটা মাথার ভেতর থেকে বের করা যায়নি। আমরা এখন আল্লাহকে ডাকছি। রেশমির এখনো জ্ঞান ফেরেনি।'
রেশমির বাবা রিয়াজ আহমেদ বলেন, 'আমার মেয়ের কোনো হুঁশ নেই। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শাস্তি চাই। আজ আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে, কাল অন্য কারও সঙ্গেও হতে পারে।'
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রেশমি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। ঘটনার সময় মায়ের নির্দেশে দোকান থেকে পান আনতে বেরিয়ে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলির শিকার হয় সে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় এক বন্দুকধারীর হামলায় হাসান রাজু (২৪) নামের এক যুবক নিহত হন। ওই সময় তাকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলিতে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় রেশমি আক্তার গুলিবিদ্ধ হয়।
প্রথমে তাকে চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে আইসিইউর প্রয়োজন হলে চমেক হাসপাতালে সিট না থাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে চমেকে সিট খালি হলে তাকে পুনরায় সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা হাসপাতালে গিয়ে রেশমির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, 'এটি অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির একটি ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।'
এ ঘটনায় গতকাল সকালে রেশমির মা সখিনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি মামলা দায়ের করেছেন।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।'
