চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ: ৫ কর্মদিবসে অভিযোগপত্র জমা দিল পুলিশ
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র জমা দেন।
পুলিশ বলছে, আদালতে আসামির অপরাধ স্বীকার, ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়েছে। গত ২২ মে এ ঘটনায় মামলা হয়। এর মধ্যে ঈদুল আজহার বন্ধ ছিল। সে হিসাবে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে টিবিএসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান।
অভিযুক্ত আসামির নাম মনির হোসেন। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর থানার বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়ার মিয়াখান নগর এলাকায় থাকতেন। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানাধীন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা বালুরমাঠ এলাকার একটি গোডাউন ঘরে ওই শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ জানান, ভুক্তভোগী শিশুর বয়স ও ধর্ষণের আলামত নিশ্চিত করতে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়। একইসঙ্গে আসামি ও শিশুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব রিপোর্টের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে।
সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ, ডাক্তারি সনদ এবং ডিএনএ রিপোর্টের ভিত্তিতে আসামি মনিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
গত ২১ মে মনির হোসেনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাকে নিয়ে থানায় যাওয়ার পথে স্থানীয়রা পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে এবং তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে স্থানীয়দের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
প্রায় ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ মনির হোসেনকে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশের যানবাহনে আগুন দেওয়ায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করা হয়।
