ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ২ আসামি কারাগারে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাসহ দুই জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ শনিবার (২ মে) বিকেলে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এই আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহান তানভীর নাছিফ ও মাইক্রোবাস চালক মো. রুবেল মিয়া।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, 'আজকে তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের এই মামলায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।'
আবেদনে বলা হয়, 'আসামিদের দেওয়া নাম-ঠিকানা সন্দেহজনক। এমতাবস্থায় আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে চিরতরে পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের ব্যাঘাত ঘটিবে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের জেল হাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।'
প্রসঙ্গত, মামলাটির তদন্তের স্বার্থে আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিট থেকে ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে শাহবাগ থানাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেট্রোরেল স্টেশন থেকে টিএসসি রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিভিন্ন উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করা হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করা, সরকার তথা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে জনসম্মুখে কালো আইন বাতিল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে তারা। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নাছিফ ও রুবেলকে একটি মাইক্রোবাসসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও ২০-২৫ জন পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. মাইনুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলাটি করেন।
