জলের শুভ্রতায় রাখাইন নববর্ষ বরণ: কক্সবাজারে শুরু তিন দিনের জলকেলি উৎসব
রাখাইন বর্ষ ১৩৮৮ বরণ উপলক্ষে কক্সবাজারের রাখাইন পল্লীগুলোতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী জলকেলি বা পানি খেলা উৎসব। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে কক্সবাজার শহরের মধ্যম টেকপাড়া রাখাইন পল্লীতে 'সাংগ্রেং পোয়ে' উৎসবের শেষ তিন দিনের এই বিশেষ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। জলের শুভ্রতায় নতুন বছরকে বরণ করে নিতে এ সময় উৎসবে মাতেন রাখাইন তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
রাখাইন পঞ্জিকা অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) শেষ হয়েছে রাখাইন বর্ষ ১৩৮৭। আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে নতুন বছর ১৩৮৮। প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৭ দিনব্যাপী 'সাংগ্রেং' বা বর্ষ বিদায় ও বরণ উৎসব পালন করে আসছে রাখাইন সম্প্রদায়। সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী, উৎসবের শেষ তিন দিন ঐতিহ্যবাহী জলকেলি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
সরেজমিনে মধ্যম টেকপাড়া পল্লীতে দেখা যায়, পুরো প্যান্ডেল জুড়ে যেন কৃত্রিম বৃষ্টির ফোয়ারা তৈরি করা হয়েছে। সাউন্ড বক্সে বাজছে রাখাইন ভাষার ঐতিহ্যবাহী গান। মাঠজুড়ে বর্ণিল পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণী ও শিশুদের উচ্ছ্বাস। প্যান্ডেলে সারিবদ্ধ পানিভর্তি ড্রাম নিয়ে অপেক্ষা করছেন তরুণীরা। অন্যদিকে, বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নেচে-গেয়ে দলবেঁধে এক প্যান্ডেল থেকে অন্য প্যান্ডেলে ছুটে যাচ্ছেন তরুণের দল। প্যান্ডেলে পৌঁছেই তরুণেরা তাঁদের পছন্দের তরুণীদের লক্ষ্য করে পানি ছুড়ছেন, আর তরুণীরাও পানি ছিটিয়ে এর প্রত্যুত্তর দিচ্ছেন।
রাখাইনদের দেওয়া তথ্যমতে, কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন রাখাইন পল্লীতে ২৫টিরও বেশি প্যান্ডেলে একযোগে এই পানি খেলা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে রামু, টেকনাফ, মহেশখালী এবং কক্সবাজার সদরের চৌফলদণ্ডীর রাখাইন পল্লীগুলোতেও বইছে উৎসবের আমেজ। তীব্র গরমে জলের এই আনন্দযজ্ঞে শামিল হয়েছেন অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষও, যা আয়োজনটিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত করেছে।
উৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরে কক্সবাজার সরকারি সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও রাখাইন নেতা ক্যা থিং অং জানান, "রাখাইন বর্ষ বিদায় ও বরণে এটি আমাদের নিজস্ব সামাজিক অনুষ্ঠান। পুরাতন বছরের সকল গ্লানি ও দুঃখ ভুলে শুদ্ধ হতে এই জল নিক্ষেপ উৎসব। রাখাইনদের কাছে এই জল শুভ্রতা ও পবিত্রতার প্রতীক। প্রতি বছর সব ধর্মের মানুষ এই উৎসবে অংশ নেন। আগামী রবিবার এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।"
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার জানান, রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসবে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি প্যান্ডেলে পুলিশের পোশাকধারী সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
