ইরান যুদ্ধ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে খাঁদে ফেলতে পারে: মাসরুর রিয়াজ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকে ঘিরে চলমান অস্থিরতা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে খাঁদে ফেলতে পারে এবং দেশকে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা- পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ।
ভয়েস ফর রিফর্মস অ্যান্ড পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ আয়োজিত "ইরান যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে যুদ্ধের প্রভাব" শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আজ রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার বিডিবিএল ভবনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধের কারণে রপ্তানি, প্রবাসী কর্মসংস্থানে আঘাত আসতে পারে। সরকারের ভর্তুকি বাড়ানোরও প্রয়োজন হতে পারে। ইতোমধ্যে জ্বালানিতে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মাসরুর রিয়াজ বলেন, "স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকার টাকা নিতে ব্যয় করতে পারে, কিন্তু ফরেন কারেন্সি কোথায় পাবেন? এটার কোনো সমাধান নাই। ফলে ডলারের উপর প্রেসার ক্রিয়েট হবে। টাকার মান যদি আবার ২০ বা ৩০ শতাংশে কমে যায়, এটা কীভাবে আটকাবেন?"
দেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, "২০১১ সালের পর থেকে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও নতুন কূপ খনন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আমরা পিছিয়ে পড়েছি। সম্ভবত কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে এলএনজি নির্ভরতার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অর্থনীতির ওপর প্রভাব সুদূরপ্রসারী, এটা কেবল জ্বালানির প্রাপ্ততা বা দামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা সামষ্টিক, ভর্তুকির কারণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, রপ্তানির টেকসইতা, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং সামগ্রিক সামাজিক ও জনজীবনে প্রভাব পড়ছে।
তিনি জ্বালানি নীতি পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, "ইরান যুদ্ধ আংশিকভাবে অনিবার্য, আংশিকভাবে দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নীতি বহু বছর ধরে ভুলভাবে পরিচালিত হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "এই পরিস্থিতিতে জরুরি পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। জ্বালানি নীতি পুনর্গঠন করতে হবে। এর চেয়ে বড় সতর্কবার্তা আর হতে পারে না।"
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. সাবাব খান, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শফিকুল আলম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রিজের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ এবং এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার- এর সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হোসেন। আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন ভসেস ফর রিফর্ম-এর সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর।
আলোচনায় অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তারা দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন।
তাদের মতে, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সংকটকালে জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহারে কঠোর সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই অর্থনীতি ও জনজীবনে পড়তে শুরু করেছে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।
