করোনার জিনোম সিকুয়েন্স: চট্টগ্রাম বিভাগের ভাইরাসের সঙ্গে মিল রয়েছে ৫ দেশের
করোনাভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্সে চট্টগ্রাম বিভাগের সঙ্গে বিশ্বের পাঁচটি দেশের মিল খুঁজে পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক দল গবেষক।
প্রাথমিকভাবে ৩০টি জিনোম সিকুয়েন্স বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে তারা এই তথ্য পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগের ভাইরাসটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, সৌদি আরব, তাইওয়ান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ভাইরাসের মিল রয়েছে।
করোনাভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার পরীক্ষিত নমুনা সংগ্রহ করে এ গবেষণা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) একদল গবেষক। গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন চবির বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক ও ড. এইচ এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ।
পুরো গবেষণাটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জীব বিজ্ঞান অনুষদ ও বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ল্যাবে সম্পন্ন হয়েছে।
একইসঙ্গে গবেষণায় করোনাভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্সে পাঁচটি নতুন মিউটেশন পাওয়া গেছে। দেশে অন্যান্য সিকুয়েন্সের তুলনায় এ পাঁচটি প্রথম শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- এস১৫৫আই (১টি নমুনায় প্রাপ্ত), এন৩৫৪এস (১টি), এস৪৭৭এন (১টি), পি৬৮১এইচ (১টি), এবং ভি১১২২এল (১টি)। এর মধ্যে পি৬৮১এইচ মিউটেশনটি সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্য পাওয়া নতুন ভাইরাসের কয়েকটি মিউটেশনের একটি। তবে এ মিউটেশনে ভাইরাসটি আক্রান্তের সক্ষমতা কতটুকু, তা নিয়ে গবেষণা করার দরকার আছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
এছাড়া বিভিন্ন জিনের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় মোট ৮৬টি নিউক্লিওটাইড পরিবর্তন হলেও অ্যামিনো এসিডে বা মিউটেশনে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সবগুলো মিউটেশন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৫টি মিউটেশন চট্টগ্রামে ব্যাপকভাবে বিস্তার করেছে।
এ গবেষণায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার ডাটা পৃথকভাবে পর্যালোচনা করে গবেষকরা এর মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা পেয়েছেন। যেমন, চট্টগ্রাম জেলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ইতালি, চেক রিপাবলিক, সৌদি আরব ও তাইওয়ান- এসব দেশের ভাইরাসের মিল রয়েছে। নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলায় যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও জাপান; কুমিল্লা ও চাঁদপুরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, চেক রিপাবলিক, ভারত ও জাপানের; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, সৌদি আরব ও ভারতের; কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, সিয়েরা লিওন, জার্মানি, ইতালি, তাইওয়ান ও চেক রিপাবলিকের এবং সর্বশেষ খাগড়াছড়ির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব ও তাইওয়ানের নমুনার মিল রয়েছে।
গবেষকদলের প্রধান চবির বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'কিছু প্রশ্ন সামনে রেখে আমাদের এই গবেষণা কাজ সাজানো হয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো চট্টগ্রাম বিভাগে ভাইরাসটি সম্ভাব্য কোন পথে প্রবেশ করে থাকতে পারে এবং এর মিউটেশন সম্পর্কে জানা। এজন্য আমরা জুন-জুলাইয়ের দিকে কাজ শুরু করেছিলাম।'
তিনি আরও বলেন, 'এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা চট্টগ্রাম বিভাগের করোনাভাইরাসের ওপর সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছি। সে লক্ষ্যে আমরা ১১টি জেলার প্রত্যেক উপজেলা থেকে কভিড পজিটিভ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করেছি। তারপর, আরএনএ এর পরিমাণ ও গুণের ওপর ভিত্তি করে ৪৬টি নমুনা জিনোম সিকুয়েন্সিং এর জন্য নির্বাচন করি। যার মধ্যে ৩৩টি নমুনার জিনোম সিকুয়েন্স ৯৯ শতাংশের ওপরে উন্মোচিত হয়েছে।'
গবেষণা কর্মটির সহযোগী হিসেবে ছিলেন চবি উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. খন্দকার রাজিউর রহমান, ইমাম হোসেন, মো. আরিফ হোসাইন ও সজীব রুদ্র, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শান্তা পাল এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের মো. ওমর ফারুক।
