হাসারাঙ্গার হ্যাটট্রিকের হাসি কেড়ে নিলেন ‘কিলার’ মিলার
মাঝারি লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে ঠিক পথেই ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম তিন উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ও এইডেন মার্করামের ব্যাটে এগিয়ে যাচ্ছিল প্রোটিয়ারা। কিন্তু হঠাৎ-ই স্পিন জাদু নিয়ে হাজির ভানিন্দু হাসারাঙ্গা। লঙ্কান এই স্পিনার মুহূর্তেই দিক ভুলিয়ে দিলেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের, করলেন দারুণ এক হ্যাটট্রিক। এরপরও বাকি থাকলো রোমাঞ্চ, যেখানে নায়ক 'কিলার' ডেভিড মিলার।
অবদান থাকলো পেসার কাগিসো রাবাদারও। শেষ ওভারে ১৫ রান তাড়ায় মিলারের দুটি ছক্কা ও রাবাদার একটি চারে দারুণ এক জয় তুলে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার লিগে ১ নম্বর গ্রুপের ম্যাচে শনিবার শারজাহতে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারের পর টানা দুটি ম্যাচ জিতলো দক্ষিণ আফ্রিকা।
ম্যাচের রং ক্ষণে ক্ষণে বদলেছে। এই শ্রীলঙ্কা এগিয়ে তো পরক্ষণেই দক্ষিণ আফ্রিকা। হাসারাঙ্গার হ্যাটট্রিকের পর মনে হয়েছিল ম্যাচটি পুরোপুরি লঙ্কানদের হাতে। শেষ দুই ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ২৫ রান। ১৯তম ওভারে একটি ছক্কা মেরে কাজটা এগিয়ে রাখেন রাবাদা। আর লাহিরু কুমারার শেষ ওভারে টানান দুই ছক্কা মেরে ম্যাচ মুঠোয় আসেন মিলার। পঞ্চম বলে চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন রাবাদা।
টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা শ্রীলঙ্কার হয়ে কেবল দুজন ব্যাটসম্যান রানের দেখা পান। ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কার ৭২ ও চারিথ আসালাঙ্কার ২১ রানের সুবাদে সব কটি উইকেট হারিয়ে ১৪২ রান তোলে লঙ্কানরা। জবাবে টেম্বা বাভুমার ও এইডেন মার্করামের পর মিলার ও রাবাদার ব্যাটে এক বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটের জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ম্যাচ হারলেও দারুণ এক কীর্তি গড়েছেন হাসারাঙ্গা। লঙ্কান এই লেগ স্পিনার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের মালিক হয়েছেন। ২০০৭ বিশ্বকাপে প্রথম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি পেসার ব্রেট লি। চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন আয়ারল্যান্ডের কার্টিস ক্যাম্ফার। আইরিশ পেসার অবশ্য সবার চেয়ে এগিয়ে, তিনি চার বলে চার উইকেট নেন।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রানের ইনিংস খেলেন বাভুমা। এ ছাড়া কুইন্টন ডি কক ১২, রাসি ভ্যান ডার ডুসেন ১৬, মার্করাম ২১ রান করেন। মিলার ১৩ বলে ২৩ ও রাবাদা ৭ বলে ১৩ রান করেন। ৪ ওভারে ২০ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন হাসারাঙ্গা। দুশমন্ত চামিরা ২টি উইকেট নেন।
এর আগে শ্রীলঙ্কার পক্ষে ৫৮ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন নিসাঙ্কা। আসালাঙ্কা ২১ ও অধিনায়ক দাসুন শানাকা ১১ রান করেন। ৩টি করে উইকেট নেন ম্যাচসেরা তাবরাইজ শামসি ও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ৩টি করে উইকেট নেন। ২টি উইকেট নেন আনরিক নরকিয়া।
