পোশাকে ভর দিয়ে প্রতিদিন উনিশ শতকে ফেরেন যে তরুণী!
মিলা পভোরোজনিয়ুক। ইউক্রেনিয়ান তরুণী। ভিনিৎসা শহরে বসবাস। জিনস-সহ সব ধরনের আধুনিক পোশাক পরিহার করে, প্রতিদিনই উনিশ শতকের পোশাক পরেন।
প্রতিনিয়ত ফ্যাশন ট্রেন্ড পরিবর্তনের এ যুগে নিজেকে উনিশ শতকের পোশাকে সাজিয়ে রাখতেই ভালোবাসেন মিলা। তার বিশ্বাস, সেই যুগের ফ্যাশন কখনোই পুরনো হবে না।
গত কয়েক বছরে তিনি সেই ভিক্টোরিয়া যুগের লং ড্রেস, কর্সেট আর এলিজেন্ট হ্যাট ও জুতায় নিজের ওয়ার্ড্রব ভরে ফেলেছেন। যদিও প্রতিদিন সকালে ওই ধরনের পোশাক পরা একটু ঝামেলার, তবু মিলার ভাষ্য, ভিনটেজ স্টাইলেই বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন তিনি।
'আমি একটি ভিনটেজ ব্লাউজ পরার মাধ্যমে শুরু করেছিলাম। এরপর পরলাম স্কার্ট। আর এভাবেই, ধীরে ধীরে এমন পোশাকে ভরে ওঠল আমার আলমারি,' রাশিয়ান সংবাদপত্র কমসোমলস্কায়া প্রাভদায় বলেন মিলা। 'এক সময় খেয়াল করলাম, এই পোশাকগুলোই আমার নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। এইসব পোশাকে তুলনামূলক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য ও আত্মবিশ্বাস অনুভব করি আমি। এখন তো বাস্তবিক অর্থেই প্রতিদিন এ পোশাক পরি।'
ভিনটেজ ফ্যাশনের প্রতি মিলার বরাবরই টান ছিল। ১২ বছর বয়সে তিনি একটি হিস্টোরিক্যাল রিকনস্ট্রাকশন ক্লাবে গিয়েছিলেন। সেখানকার সদস্যদের মধ্যে মধ্যযুগীয় পোশাকের প্রতি টান দেখে তিনিও প্রভাবিত হন। এরপর সুযোগ পেলেই বিভিন্ন উৎসবে যোগ দিয়ে এ ধরনের পোশাক ও সে সময়কার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা পেইন্টিং খুঁজতে থাকেন। এভাবে ফ্যাশনের ইতিহাস নিয়ে গবেষণাই শুধু নয়, এ ধরনের পোশাকের আদ্যোপান্ত সম্পর্কেও জানাশোনা বাড়তে থাকে তার।
মিলার আলমারিতে এখন বিভিন্ন সময়কালের শতাধিক পোশাক-পরিচ্ছদ রয়েছে। সেগুলোর বেশিরভাগই আঠার শতকের শেষ ও উনিশ শতকের শুরুর ভাগের সময়কার, যে সময়ে মেকআপবিহীন নারীদের বেশি 'স্বাস্থ্যবতী ও রূপসী' দেখাত; এমনকি তারা লিপস্টিকও খুব একটা ব্যবহার করতেন না।
এমন পোশাক-পরিচ্ছদে নিজেকে 'ভিনটেজ লেডি' পরিচয় দিতে ভালোবাসেন মিলা।
- সূত্র: অডিটি সেন্ট্রাল
