‘বাতিল করো’, মার্কিন ‘ফ্রিডম ২৫০’ উৎসব থেকে শিল্পীরা সরে দাঁড়ানোয় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে আয়োজিত সংগীতানুষ্ঠান বাতিলের কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে বেশ কয়েকজন শিল্পী নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ট্রাম্প এই প্রতিক্রিয়া জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, 'এটা বাতিল করুন।' ওই পোস্টে তিনি চুক্তিবদ্ধ শিল্পীদের 'অতিরিক্ত দামি' এবং 'বিরক্তিকর' বলেও মন্তব্য করেন।
গত বুধবার এই অনুষ্ঠানের জন্য ৯ জন শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু রোববার পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকজন শিল্পী পারফর্ম করতে রাজি ছিলেন। মার্টিনা ম্যাকব্রাইড, দ্য কমোডোরস, ইয়াং এমসি এবং ব্রেট মাইকেলস ইতিমধ্যেই নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
ভ্যানিলা আইস এবং মিলি ভ্যানিলি আগামী ২৬ জুনের অনুষ্ঠানে এবং ফ্লো রাইডা ২ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এখন এই সংগীতানুষ্ঠানের বদলে সেখানে একটি 'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' সমাবেশ করার কথা ভাবছেন।
'গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার' নামের এই কনসার্ট সিরিজের আয়োজক হলো 'ফ্রিডম ২৫০'। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন এটি চালু করেছিল এবং প্রেসিডেন্ট নিজেই এর সিইও নিয়োগ দিয়েছিলেন। তবে তারা দাবি করে আসছে যে এটি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান নয়।
হোয়াইট হাউস এই আয়োজনে ফ্রিডম ২৫০-এর সঙ্গে কাজ করছে।
শনিবার ফ্রিডম ২৫০ জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
মুখপাত্র ড্যানিয়েল আলভারেজ বলেন, 'আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আগামী ২৪ জুন বুধবার এক জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই ঐতিহাসিক উৎসবের সূচনা করবেন। এর মধ্য দিয়ে আমেরিকার ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।'
দেশের ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের জন্য এক দশক আগেই কংগ্রেস 'আমেরিকা২৫০' নামে একটি সংগঠন তৈরি করেছিল। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের নিয়োগপ্রাপ্তরাই এটি পরিচালনা করছেন এবং তাদের নিজস্ব অনুষ্ঠানমালা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক সিটি, ফিলাডেলফিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ জুলাইয়ের উদযাপন এবং যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্লক পার্টি।
হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, 'আমেরিকান স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীর ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে একটি মহিমান্বিত উৎসবের মাধ্যমে উদযাপন করতে' গত বছর ট্রাম্প একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন। আর 'সেই লক্ষ্য পূরণের জন্যই' এই টাস্কফোর্স 'ফ্রিডম ২৫০'-এর উদ্যোগ নিয়েছে।
২৫ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত ১৬ দিনের অনুষ্ঠানের জন্য গত বুধবার শিল্পীদের নাম ঘোষণা করে ফ্রিডম ২৫০।
মার্টিনা ম্যাকব্রাইডের এই আয়োজনের প্রথম রাতে পারফর্ম করার কথা ছিল। পয়জন ব্যান্ডের প্রধান গায়ক মাইকেলসের পারফর্ম করার কথা ছিল ৩ জুলাই। কিন্তু দুজনেই তাদের নাম প্রত্যাহার করে নেন।
ইয়াং এমসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, শিল্পীদের এই অনুষ্ঠানের 'রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার' কথা জানানো হয়নি। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন ডিসিতে এমন কোনো অনুষ্ঠানে তিনি গাইতে চান, যা 'রাজনৈতিকভাবে এত বেশি প্রভাবিত নয়'।
ম্যাকব্রাইড এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, 'আমাকে একটি অরাজনৈতিক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে দেখেছি তা বিভ্রান্তিকর।'
তবে ভ্যানিলা আইস (যার আসল নাম রবার্ট ম্যাথিউ ভ্যান উইঙ্কল) তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিওর ক্যাপশনে লেখেন, 'এটি কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নয়। এটি আমেরিকার জন্মদিন উদযাপন।'
ট্রাম্পের কড়া প্রতিক্রিয়া
ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি শুনেছেন যে শিল্পীরা 'ইপস'-এ ভুগছেন। (গলফে মাংসপেশির অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনির কারণে ঠিকমতো শট নিতে না পারাকে ইপস বলা হয়)। ট্রাম্প জানান, তিনি ওই একই সময়ে এবং একই স্থানে নিজেই উপস্থিত হওয়ার কথা ভাবছেন।
তিনি লেখেন, 'আমি আমার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিচ্ছি, বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে একই সময়ে এবং একই স্থানে একটি "আমেরিকা ইজ ব্যাক" র্যালি করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে। সেখানে কেবল মহান দেশপ্রেমিকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।'
তিনি নিজেকে 'বিশ্বের যেকোনো জায়গার এক নম্বর আকর্ষণ' বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি লেখেন, 'জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এলভিস প্রিসলির চেয়েও আমার অনুষ্ঠানে অনেক বেশি দর্শক-শ্রোতা সমাগম হয়।'
পরে ট্রাম্প আরও কড়া সুরে বলেন, তিনি এই আয়োজনের বদলে একটি রাজনৈতিক সমাবেশই করতে চান।
তিনি বলেন, 'এই ২৫০তম বার্ষিকীতে আমাদের উচিত একটি বিশাল "মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন" র্যালির আয়োজন করা। এমন সব অতিরিক্ত দামি শিল্পীদের ডাকার কোনো মানে নেই, যাদের কেউ শুনতে চায় না, যাদের গান বিরক্তিকর এবং যারা শুধু অভিযোগ করা ছাড়া আর কিছুই করে না।'
উল্লেখ্য, এই দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সীমিতসংখ্যক স্মারক পাসপোর্টও ইস্যু করবে, যেখানে ট্রাম্পের ছবি থাকবে।
