করোনার নতুন হটস্পট হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়াল। বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৯৫ জন নতুন সংক্রমিতসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১৫ জন। একই সময়ে চট্টগ্রামে মারা গেছে ২৬ জন। গত একমাস আগেও এ সংখ্যা ছিল মাত্র ১৬ জন। আক্রান্তের দিক থেকে এখন নারায়ণগঞ্জের পর নতুন হটস্পট হচ্ছে চট্টগ্রাম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এভাবে বাড়তে থাকলে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে নারায়ণগঞ্জকেও। চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বন্দরকেন্দ্রিক মানুষের আনাগোনার কারণেও বাড়ছে সংক্রমণের ঝুুঁকি।
চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুধবারের রিপোর্ট অনুযায়ী বিআইটিআইডিতে ২৩১টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৯ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছ। এর মধ্যে মহানগরসহ চট্টগ্রামের ৩৮ জন রয়েছেন। সিভাসুতে ৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ২০ জনের পজিটিভ এসেছে। যার ১২ জন চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে চট্টগ্রামের ৪৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত করা হয়।
চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার সঙ্গে চট্টগ্রামের আন্তঃযোগাযোগের কারণে এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। আমরা খবর নিয়ে জেনেছি, নারায়ণগঞ্জ থেকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী এবং কক্সবাজারে অনেক ব্যবসায়ী এসেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামের এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বিভিন্ন যানবাহন যাতায়াত করছে। এমনকি নগরীতেও বিভিন্ন উপজেলার যানবাহন আসছে। এই আন্তঃযোগাযোগ আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামের পথে-ঘাটে এখন কোনো বাধা নেই। মানুষ যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাচ্ছে। আন্তঃযোগাযোগ বন্ধ না হলে সামনে চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।
সীমিত আকারে ও শর্তসাপেক্ষে গার্মেন্টস, দোকানপাট, শপিংমল থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। সে ধারাবাহিকতায় দোকানপাট খুলছেও। এতে স্বাভাবিক কারণেই রাস্তায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল বেড়েছে। চট্টগ্রাম নগরীতে গত এক সপ্তাহ ধরেই বেড়েছে লোকসমাগম ও যানবাহনের সংখ্যাও।
সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের জন্য আগে মোবাইলকোর্ট পরিচালিত হলেও এখন নগরীতে তাও দেখা যাচ্ছে না। ফলে এ সুযোগটিকে পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছেন মানুষ। তারা ইচ্ছেমতো বের হচ্ছেন। এতে ভেঙ্গে পড়েছে সামাজিক দূরত্ব ব্যবস্থাপনা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন জানান, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার রিমোর্ট কন্ট্রোল এখন মানুষের হাতে। তাদের জীবন তারাই রক্ষা করবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, আমি মার্চ মাসেই সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে করোনায় চট্টগ্রাম হবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এখন চট্টগ্রাম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সামনে চট্টগ্রামের জন্য কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।
