চট্টগ্রামে করোনা রোগী ভর্তি নিচ্ছে না বেসরকারি হাসপাতাল
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) বেড ও ভেন্টিলেটর সম্বলিত ১২টি বেসরকারি হাসপাতাল নির্বাচিত করে ৪ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারি চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে অন্য রোগীদের এসব হাসপাতাল কীভাবে সেবা দেওয়া হবে, সেই সংক্রান্ত কোনো গাইডলাইন স্বাস্থ্য বিভাগ দেয়নি। তাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি নিচ্ছে না ওই হাসপাতালগুলো।
এর মধ্যে তালিকায় থাকা পার্কভিউ হাসপাতাল এক রোগীকে ফেরত দিয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় চট্টগ্রামে কোনো আইসিইউ নেই। ইতোমধ্যে এ ভাইরাসে আক্রান্ত দুই রোগী আইসিইউ না পেয়ে মারা গেছেন।
নির্বাচিত হাসপাতালগুলোর মালিকরা বলছেন, চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগ একটি নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু অন্য রোগীদের কীভাবে চিকিৎসা দেওয়া হবে, সে ধরনের গাইডলাইন পাইনি। তাই করোনা রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না।
পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম রেজাউল করিম বলেন, সরকারিভাবে নির্দেশনা থাকলেও আমরা করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকা রোগী ভর্তি নিচ্ছি না। কারণ এখানে এমন রোগী ভর্তি করা হলে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ হতে পারে। তাছাড়া আমাদের হাসপাতাল চালু রাখার একটি ব্যাপার আছে। করোনা রোগী শনাক্তের পর ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতাল ও ন্যাশনাল হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাই নির্দিষ্ট গাইডলাইন না পেলে আমরা করোনাভাইরাসের রোগী ভর্তি করাব না।
এদিকে শুধু নির্দেশনা দিয়ে দায় সেরেছে বলে অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের বিরুদ্ধে।
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের গঠিত মোকাবেলা কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক ডা. আ ন ম মিনহাজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় এখনো আইসিইউ ব্যবস্থা হয়নি। ১২টি হাসপাতালের তালিকা করা হলেও সেগুলো অধিগ্রহণ করা হয়নি। এজন্য ওই হাসপাতালগুলো সেবা দিচ্ছে না। নির্দেশনা না মানার দায়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থাও নিচ্ছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। মূলত চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতার কারণে এমনটা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া ১০টি আইসিইউ বেড জেনারেল হাসপাতালে পৌঁছালেও এখনো স্থাপনের কাজ শেষ হয়নি। এ ছাড়া জেনারেল হাসপাতালের গোডাউনে পড়ে থাকা ৮টি আইসিইউ বেডে সংযোজনের জন্য সরকার অনুমতি দিলেও সেগুলো এখনো সেখানে পড়ে আছে। আমরা ৭ দিনের মধ্যে আইসিইউ স্থাপন করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নিজেরাই করবে বলে জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা করোনা মোকাবেলা কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ১২টি হাসপাতাল নির্বাচিত করা হয়েছে। তাদেরকে সেবা দিতে বলা হয়েছে। যদি তারা সেবা না দেয়, তাহলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে নির্বাচিত বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা নিজেদের দায়িত্ব এড়াতে বিকল্প হিসেবে পরিত্যক্ত হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করছে। অথচ হাসপাতালটিতে গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগও নেই। কবে এই হাসপাতাল প্রস্তুত হবে, সেটিও বলতে পারেনি উদ্যোক্তারা।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তফা জামাল বলেন, এই পর্যন্ত দুইজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর আইসিইউ সেবা প্রয়োজন হয়েছে। কিন্তু আইসোলেশন ইউনিটে আইসিইউ না থাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। একজন রোগীকে পার্কভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলেও তারা ভর্তি নেয়নি। পরে আবার ফেরত আনা হলে তিনি আইসোলেশন ইউনিটে মারা যান।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। আইসিইউ স্থাপন সময়ের ব্যাপার। তবুও আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।
জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোস্তফা জামাল বলেন, আইসিইউর অক্সিজেন স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে অবকাঠামোর নির্মাণের কাজ। এরপর যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হবে। তারপর জনবল পাওয়ার পর সেবা হবে। এই কাজগুলো করতে আনুমানিক আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগবে।
চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে জেনারেল হাসপাতাল ও ফৌজদারহাট বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে। এই দুই হাসপাতালে ১৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ২৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে একজন চিকিৎসকও রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন।
