প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে পুরো ফ্রান্স ফুটবল জ্বরে কাঁপছে!
তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাজনীতিবিদ। কই থাকবেন একটু সংযত, তা নয়–বরং কিনা উত্তেজনায় টগবগ করছেন। কথা হচ্ছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখোকে নিয়ে। অবশ্য ফুটবলের বিশ্বরণের ফাইনালে উঠেছে দেশ, উত্তেজনার আঁচ থেকে ফরাসী প্রেসিডেন্টও বাদ পড়বেন না– এটাই তো স্বাভাবিক। খবর আল জাজিরার
সরাসরি ম্যাচ দেখতে তাই এক সপ্তাহের মধ্যে মতো আজ রোববার দ্বিতীয়বারের মতো এসেছেন কাতারে। আর্জেন্টিনার সাথে আজ রাতের চূড়ান্ত ফুটবল যুদ্ধে হ্রদয় উজাড় করে সমর্থন দেবেন জাতীয় দল- লে ব্লু'দের।
গত বুধবারও গ্যালারিতে আনন্দ উদযাপন করেছেন ফরাসী মাঁখো। এদিন সেমিফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফ্যান্তিও ছিলেন তার সাথে।
মাঁখোর এই সমর্থন কিন্তু ফরাসী জাতির ফুটবলের প্রতি তীব্র অনুরাগ আর আসক্তিরই প্রতীক। পর পর দুই দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় উত্তেজনায় কাঁপছে পুরো জাতি।
সেকথা উঠে আসে মাঁখোর বক্তব্যেও। মরক্কোর বিরুদ্ধে জয়ের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'দেশ নিয়ে খুবই গর্বিত আমি। আর খুশিরও সীমা নেই। আমি চাই নির্মল এই (বিশ্বকাপ জয়ের) আনন্দটা উপভোগ করুক ফরাসীরা'।
নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয় লে ব্লু'রা নিশ্চিত করতে পারলে মাঁখোর এই ১৩ হাজার কিলোমিটার যাওয়া-আসা পুরোটাই হবে আরও স্বার্থক।
দলের প্রতি তিনি টুইটারে লিখেছেন, 'ওকে (বিশ্বকাপ ট্রফি) ঘরে ফিরিয়ে আনুন'। ফরাসীরা অবশ্য ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফিকে তাদের ভাষায় ডাকে 'ক্যুপ ডি মন্ড' নামে।
লে ব্লুজদের সমর্থন জানাতে গিয়ে কিছু সমালোচনার শিকারও হয়েছেন মাঁখো। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের যুগে বিমানের জ্বালানি পুড়িয়ে কাতারে যাতায়াত করায় তার নিন্দা করেছেন জলবায়ু অধিকার কর্মীরা। একে তারা বলেছে পরিবেশের জন্য 'ক্ষতিকর'।
বিশেষত যখন কানাডায় জৈববৈচিত্র্য বিষয়ক সম্মেলনে না নিয়ে সফরের জন্য কাতারকেই বেছে নেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট।
জলবায়ু বিষয়ক একটি অলাভজনক প্রচারণা গোষ্ঠী– আভাজের ক্যাম্পেইন ডিরেক্টর অস্কার সোরিয়া বলেছেন, 'আমরা মনে করি, নেতৃত্বের বিস্ময়কর রকম ব্যর্থতা প্রদর্শন করে তিনি ফুটবল ম্যাচ দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন'।
অবশ্য এনিয়ে কোনোপ্রকার দুঃখপ্রকাশের করেননি মাঁখো।
তিনি অকপটে বলেছেন, 'আমি ফরাসী টিমকে সমর্থন দিচ্ছি, আর আমি জানি সব ফরাসীই তাই করছে'।
আসলেই ফরাসীদের ম্যুড এখন আলাদা। রোববার রাতে মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দেখেছেন ২ কোটির বেশি ফরাসী, যা একটি রেকর্ড। আর আজকের ফাইনাল ঘিরে উত্তেজনার পারদ আকাশ ছুঁয়েছে ফ্রান্স জুড়ে।
