ইরানের বিরুদ্ধে ড্রোন উড়িয়ে বড় ঝুঁকি নিল সৌদি-আমিরাত
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক আগ্রাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের সরাসরি অংশগ্রহণকে অত্যন্ত 'উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত' হিসেবে অভিহিত করছেন বিশ্লেষকরা। দুই আরব দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত নাজুকতা সত্ত্বেও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়াকে তাদের জন্য একটি বড় ধরনের 'জুয়া' হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির 'ওয়ার ন্যারেটিভ গ্রুপ'-এর আজকের (৪ এপ্রিল) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ফারস প্রদেশের আকাশে একটি 'এমকিউ-৯ রিপার'-সহ দুটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার খবর আগে জানানো হয়েছিল। তবে হামলার পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার ছবি এবং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ বলছে, ভূপাতিত দুটি ড্রোনের মধ্যে সম্ভবত একটি ছিল 'রিপার'।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, দ্বিতীয় ড্রোনটি ছিল চীন নির্মিত 'উইং লুং' মডেলের। এই ড্রোনটি ইরানের 'শাহেদ-১২৯'-এর মতোই দীর্ঘ সময় আকাশে ওড়ার ক্ষমতা সম্পন্ন এবং নজরদারি ও আক্রমণ উভয় কাজেই পারদর্শী। বর্তমানে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে এই ধরনের ড্রোন রয়েছে।
যদি এই ধারণাটি সঠিক হয়, তবে এর অর্থ হলো—ওই দুই দেশের মধ্যে কোনো একটির ড্রোন সরাসরি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। এটি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর যুদ্ধে পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ার বড় একটি লক্ষণ। এর আগে এসব দেশ তাদের সামরিক ঘাঁটি এবং অবকাঠামো প্রকাশ্যে বা গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের সুযোগ করে দিলেও এবার তারা সরাসরি অভিযানে অংশ নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক এই পক্ষগুলো কেবল মার্কিন অপারেশনকে সমর্থনই করছে না, বরং উত্তেজনা বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। এই পরিস্থিতি ইরানের পাল্টা জবাবের পরিধি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং এতে সৌদি আরব ও বিশেষ করে আমিরাতের অবকাঠামো নতুন করে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব দেশগুলোর উচ্চ অর্থনৈতিক এবং অবকাঠামোগত সংবেদনশীলতা থাকা সত্ত্বেও এই যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ তাদের জন্য অত্যন্ত আত্মঘাতী হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে অথবা ওয়াশিংটনের কৌশলগত প্রয়োজনে এই দেশগুলো যুদ্ধে জড়াচ্ছে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন ওয়াশিংটন বারবার তার আঞ্চলিক মিত্রদের যুদ্ধের ব্যয়ভার বহন করার কথা বলছে।
ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে ইরানি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনটি সম্ভবত ইরানের 'ডে-৯' আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে, উইং লুং ড্রোনটি ভূপাতিত করতে ব্যবহার করা হয়েছে 'মাজিদ' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
যদি এই তথ্য সঠিক হয়, তবে এটি হবে বর্তমান যুদ্ধে 'ডে-৯' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রথম সফল লক্ষ্যভেদ, যা কারিগরি ও সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
