ইরানে চীনা ড্রোন ভূপাতিত: সৌদি-আমিরাত যুদ্ধে যোগ দিল কি না জল্পনা
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শিরাজ অঞ্চলে একটি চীনা উইং লুং-২ ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে ঘিরে ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মতো উপসাগরীয় দেশগুলো কি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে জড়িয়ে পড়ছে?
প্রাথমিকভাবে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি বিধ্বস্ত ড্রোনের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছিল, ইরানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি 'এমকিউ-৯ রিপার' ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে একাধিক গোয়েন্দা বিশ্লেষক ধ্বংসাবশেষের ছবি পরীক্ষা করে সেটিকে চীনা 'উইং লুং-২' হিসেবে শনাক্ত করেছেন, যা দেখতে অনেকটা মার্কিন রিপার ড্রোনের মতোই।
সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই বিশ্লেষণের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে না পারলেও, পরবর্তীতে তেহরান টাইমসও ড্রোনটিকে চীনের তৈরি বলে উল্লেখ করে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঠিক আগ মুহূর্তে ইরান চীন থেকে কিছু ড্রোন পেয়েছিল। তবে একজন আঞ্চলিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেইজিং মূলত তেহরানকে 'কামিকাজে' বা আত্মঘাতী ড্রোন পাঠিয়েছে, যা উইং লুং-এর মতো পুনঃব্যবহারযোগ্য ড্রোন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
'রাশিয়া অ্যান্ড ইরান: পার্টনারস ইন ডিফায়েন্স ফ্রম সিরিয়া টু ইউক্রেন' গ্রন্থের লেখক নিকোল গ্রাজেস্কি এই বিষয়ে বলেন, ইরানের নিজস্ব সামরিক ভাণ্ডারে 'উইং লুং' ড্রোনের কোনো অস্তিত্ব নেই।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল উইং লুং-২ ড্রোন ব্যবহার করে বলে জানা যায় না। তবে সৌদি আরব এবং ইউএই উভয়ের কাছেই এই ড্রোনের মজুদ রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুদানের গৃহযুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনী 'র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস'কে সহায়তা দিতে ইউএই এই ড্রোনটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সৌদি আরব বা ইউএই এই ড্রোন পরিচালনা করে থাকে, তবে তা হবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তাদের সমর্থনের মাত্রা বেড়েছে বলে ইঙ্গিত দেবে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এটি ঘটছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযানে অংশ নিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করছে।
মিডল ইস্ট আই সর্বপ্রথম প্রকাশ করেছিল যে, সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় কিং ফাহদ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বর্ধিত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছে। যদিও রিয়াদ প্রথম থেকেই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছিল, কিন্তু বর্তমানে তারা নিজেদের প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের সন্তুষ্টি অর্জন এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে জড়িয়ে এক বিতর্কিত মন্তব্য করেন। যদিও সৌদি আরব এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়নি, তবে রিয়াদে অবস্থানরত এক পশ্চিমা কূটনীতিক মিডল ইস্ট আই-কে জানিয়েছেন, এই বক্তব্যে রাজপরিবারের ভেতরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, ইরানের বিষয়ে সৌদি আরবের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। এমনকি হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘের কাছেও লবিং বা তদবির করেছে আমিরাত।
