ইরানে যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের; ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট চাইলেন ট্রাম্প
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আজ (৩ এপ্রিল) ৩৫তম দিন। হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের ১ ক্রুকে উদ্ধারের দাবি মার্কিন বাহিনীর
ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত করা মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের একজন ক্রুকে উদ্ধারের দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সকালে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দেশের আকাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে।
সূত্র জানিয়েছে, বিমানটিতে দুজন ক্রু ছিলেন। ঘটনার পর তাদের উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে মার্কিন বাহিনী।
এদিকে সিএনএন বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিমানটির পাইলট জীবিত রয়েছেন। তিনি মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তবে বিমানের আরেক ক্রুর বিষয়ে কোনো কিছু জানা যায়নি। সূত্র জানিয়েছে, তাকে উদ্ধারে অভিযান চলছে।
ইরানে নিখোঁজ পাইলট খুঁজতে গিয়ে এবার হামলার মুখে মার্কিন হেলিকপ্টার
ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে চালানো অভিযানে এবার বড় ধরনের বিপর্যয়ের খবর পাওয়া গেছে।
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ইরানের গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'মেহের নিউজ এজেন্সি'।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিধ্বস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খুঁজে বের করতে মার্কিন বাহিনী যে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল, সেই অভিযানে অংশ নেওয়া একটি হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। একটি প্রজেক্টাইল বা গোলার আঘাতে হেলিকপ্টারটি আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ট্রাম্পের 'প্রস্তর যুগে' ফেরত পাঠানোর হুমকি 'বড় ধরনের যুদ্ধাপরাধ' করার অভিপ্রায়: পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'ইরানকে 'প্রস্তর যুগে' পাঠিয়ে দেওয়ার যে হুমকি দিয়েছেন, সেটি আসলে একটি 'বড় ধরনের যুদ্ধাপরাধ করার অভিপ্রায়'।
''ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে যুদ্ধ শেষের চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানকে 'স্টোন এজ' বা প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে'' বলে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'আমি এই প্রশ্নটাই ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের কাছে করেছি, যিনি একজন আইনজীবী।' পেজেশকিয়ান আরও বলেন, 'ইতিহাসে এমন অনেক উদাহরণ আছে, যেখানে অপরাধীদের বিরুদ্ধে চুপ থাকার জন্য মানুষকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে।'
ইরান যুদ্ধের মধ্যেই ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট চাইলেন ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রতিরক্ষা খাতে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য মার্কিন কংগ্রেসের কাছে আবেদন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধ চলাকালীন এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, ট্রাম্প এবং তার মন্ত্রিসভা দীর্ঘ দিন ধরেই মিত্র দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।
এর পাশাপাশি ট্রাম্প নিজেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় আরও বৃদ্ধির বিষয়ে বারবার তার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন।
ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমান থেকে মার্কিন পাইলটের অবতরণের দাবি, ধরিয়ে দিলে বড় পুরস্কারের ঘোষণা
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে এক পাইলট জরুরি অবস্থায় বিমান থেকে বেরিয়ে পড়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের একটি সহযোগী স্থানীয় চ্যানেলে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রচারিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই এলাকায় মার্কিন বিমানের উপস্থিতির কিছু ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এই দাবি করা হলো।
চ্যানেলটির সংবাদ উপস্থাপক এক ঘোষণায় বলেন, 'যদি আপনারা শত্রু পাইলট বা পাইলটদের জীবিত আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারেন, তবে আপনাদের মূল্যবান পুরস্কার দেওয়া হবে।'
এছাড়া টেলিভিশনের স্ক্রিনে চলা স্ক্রলে (নিচের লেখা) জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, 'তাদের দেখামাত্রই গুলি করুন।'
তবে এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুয়েতে ড্রোন বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'র্যাপিড সেন্ট্রি' মোতায়েন করল ব্রিটেন
কুয়েতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একের পর এক ড্রোন হামলার ঘটনার পর সেখানে নিজেদের অত্যাধুনিক 'র্যাপিড সেন্ট্রি' বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে ব্রিটেন।
মূলত কুয়েত ও ব্রিটেনের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি লবণমুক্তকরণ কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির 'মিনা আল-আহমাদি' তেল শোধনাগারেও বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। কুয়েতি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় শোধনাগারটির বেশ কিছু সচল ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, ভৌগোলিকভাবে ইরান থেকে কুয়েতের দূরত্ব মাত্র ৮০ কিলোমিটার।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রয়্যাল এয়ার ফোর্স এই 'র্যাপিড সেন্ট্রি' মোতায়েন করেছে। এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর স্বল্প পাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা বিশেষভাবে ড্রোনের হুমকি মোকাবিলা ও ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল: দাবি ইরানের
কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে ইসরায়েলের চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এই হামলাকে 'অমানবিক' আখ্যা দিয়ে ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
আইআরজিসি-র জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সরাসরি ইসরায়েলকে বেসামরিক অবকাঠামোতে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে জায়োনিস্ট শাসনের এই অপ্রথাগত ও অবৈধ হামলা দখলদারদের নীচতা ও জঘন্য মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। রেভল্যুশনারি গার্ডস এই অমানবিক কাজের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা ঘোষণা করছি যে, এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেনাসদস্য এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জায়োনিস্ট শাসনের সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্রগুলো এখন আমাদের শক্তিশালী লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে।
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেন পোপ লিও
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগকে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও ১৪। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে দুই নেতার মধ্যে এক টেলিফোন আলাপে তিনি এই আহ্বান জানান।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, ইস্টার উপলক্ষে আয়োজিত এই ফোনালাপের মূল আলোচনার বিষয় ছিল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে 'একটি ন্যায়সংগত এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি' প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা। এ লক্ষ্যে পোপ 'কূটনৈতিক সংলাপের সব সম্ভাব্য পথ পুনরায় উন্মুক্ত করার' ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করল ফ্রান্সের জাহাজ
ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে ফ্রান্সের মালিকানাধীন একটি কন্টেইনার জাহাজ। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ খবর জানিয়েছে মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স সংস্থা 'মেরিন ট্রাফিক'।
ধারণা করা হচ্ছে, সংঘাত শুরুর পর এটিই প্রথম কোনো পশ্চিমা পতাকাবাহী জাহাজ যা এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি পার হলো।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মেরিন ট্রাফিক জানায়, 'সিএমএ সিজিএম ক্রিবি' নামের জাহাজটি বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে ইরানি জলসীমা ব্যবহার করে বাংলাদেশ সময় রাত ১টা হরমুজ প্রণালি থেকে বেরিয়ে আসে।
জ্বালানি সংকটের জেরে ইসলামাবাদে বিনামূল্যে গণপরিবহন চলাচলের ঘোষণা
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী শনিবার থেকে সব ধরনের সরকারি গণপরিবহন বিনামূল্যে চলাচলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, 'জনগণকে এই বিশেষ সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩৫০ মিলিয়ন (৩৫ কোটি) পাকিস্তানি রুপি ব্যয়ভার বহন করবে।'
উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে পাকিস্তানে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এর ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও যাতায়াত ব্যয় থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতেই সরকার এই 'পাবলিক রিলিফ' উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
শনিবার থেকেই এই নির্দেশনা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ছবি প্রকাশ করল তাসনিম নিউজ
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'তাসনিম নিউজ এজেন্সি' জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মধ্য ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিমান ভূপাতিত করা হয় এবং এর ধ্বংসাবশেষের কিছু ছবি তারা হাতে পেয়েছে।
তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধারকৃত ধ্বংসাবশেষের গায়ের চিহ্ন বা মার্কিং থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বিমানটি মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের। যদিও এর আগে বিমানটি 'এফ-৩৫' মডেলের হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল, তবে নতুন প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট মডেলের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, 'ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটি মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের ৪৮তম স্কোয়াড্রনের অন্তর্ভুক্ত, যা ইংল্যান্ডের লেকেনহিথ বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত। এই স্কোয়াড্রনটিকে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অপারেশনাল এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল।'
সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান গ্যাস কেন্দ্রে আগুন, কার্যক্রম স্থগিত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম বৃহত্তম গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র 'হাবশান গ্যাস কমপ্লেক্সে' অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আকাশেই ধ্বংস করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ স্থাপনাটির ওপর পড়লে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। আবুধাবি মিডিয়া অফিস আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মিডিয়া অফিস জানায়, 'কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় কেন্দ্রটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।'
অবকাঠামোতে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন সম্পদ ধ্বংসের হুমকি ইরানের
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের কোনো অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত সম্পদ ও স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি সামরিক বাহিনী।
ইরানের 'খাতাম আল-আনবিয়া' কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এই সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, 'আমাদের কোনো অবকাঠামো স্পর্শ করার দুঃসাহস দেখালে আমরা এই অঞ্চলে আপনাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) সমস্ত সম্পদ এবং অবকাঠামো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব।'
জোলফাগারি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার যে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছেন, তার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যদি ট্রাম্পের এই হুমকি কার্যকর করা হয়, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পুরো অঞ্চল জুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এছাড়া যেসব মিত্র দেশে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, সেই সব দেশের মার্কিন স্থাপনাগুলোও হামলার আওতায় আসবে।
আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করে জোলফাগারি বলেন, 'যেসব দেশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটির আতিথেয়তা দিচ্ছে, তারা যদি নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চায় তবে অবিলম্বে আমেরিকানদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করা উচিত।'
'বিজয় ঘোষণা' করে ইরানের যুদ্ধ শেষ করা উচিত: জাভেদ জারিফ
ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ তার দেশকে 'বিজয় ঘোষণা' করার এবং এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যা বর্তমান সংঘাতের অবসান ঘটাবে এবং ভবিষ্যতে বড় কোনো যুদ্ধের পথ বন্ধ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সাময়িকী 'ফরেন অ্যাফেয়ার্স'-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে জারিফ এই মন্তব্য করেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আলোচনার প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত এই কূটনীতিক সেখানে একটি রূপরেখা তুলে ধরেছেন।
জারিফের প্রস্তাবের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নিষেধাজ্ঞা বনাম পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ: ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিতে হবে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত সকল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। জারিফের মতে, ওয়াশিংটন আগে এই শর্তে রাজি না হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২. পারস্পরিক অনাক্রমণ চুক্তি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি 'পারস্পরিক অনাক্রমণ চুক্তি' স্বাক্ষরিত হওয়া উচিত। যেখানে উভয় দেশ অঙ্গীকার করবে যে তারা ভবিষ্যতে একে অপরের ওপর কোনো হামলা চালাবে না।
৩. অর্থনৈতিক সম্পর্ক: জারিফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন। এটি আমেরিকান ও ইরানি—উভয় দেশের সাধারণ মানুষের জন্য লাভজনক হবে বলে তিনি মনে করেন।
৪. অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে মনোযোগ: সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এসব পদক্ষেপ সফল হলে ইরানের সরকারকে বিদেশি শত্রুর হাত থেকে দেশ রক্ষার পেছনে শক্তি ও অর্থ কম ব্যয় করতে হবে। ফলে সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে অনেক বেশি মনোনিবেশ করতে পারবে।
জারিফ মনে করেন, তার প্রস্তাবিত এই কৌশলের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধটি তেহরানের জন্য 'অনুকূল শর্তে' শেষ করতে সক্ষম হবে।
কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রধান তেল ও পানি শোধনাগার ইরানের ড্রোন হামলা; আগুন, ক্ষয়ক্ষতি
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের মিনা আল-আহমাদি শোধনাগার—যা কুয়েত শহরের দক্ষিণে প্রায় ২৮ মাইল দূরে একটি প্রধান তেল শোধনাগার ও রপ্তানি কেন্দ্র—শুক্রবার ভোরে ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। হামলার ফলে কার্যরত ইউনিটে আগুন ধরে যায়, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, আজ সকালে ইরানের হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পানি শোধানাগার প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৮ জন আহত: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে সংঘাতের কারণে ১৪৮ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট ৬,৫৯৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে আঞ্চলিক জ্বালানি ও টেলিকম স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুমকি ইরানের
ইরানের প্রেস টিভি থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান অঞ্চলের শক্তি অবকাঠামো এবং মার্কিন অংশীদারিত্বযুক্ত তথ্য ও টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে।
ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা পূর্বেও বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তারা মধ্যপ্রাচ্যে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
হরমুজ প্রণালি প্রস্তাবে ভোটের আগে ইরানের হুঁশিয়ারি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, শুক্রবার হরমুজ প্রণালিসংক্রান্ত প্রস্তাবে ভোটের আগে কোনো 'উত্তেজনাপূর্ণ কার্যক্রম' চলবে না, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবটি পাশ হলে, জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোকে প্রণালি খোলা রাখতে 'প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা' নেওয়ার অনুমোদন দেয়া হবে।
আরাগচি বলেন, 'উদ্বেগ সৃষ্টিকারী কার্যক্রম বা আগ্রাসক ও তাদের সমর্থকদের কোনো পদক্ষেপ, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে, পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে।'
হরমুজ প্রণালিসংক্রান্ত প্রস্তাবে আগামীকাল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভোট
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ হরমুজ প্রণালিসংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে শুক্রবার ভোট দেওয়ার কথা রয়েছে। বাহরাইনের উত্থাপিত এই প্রস্তাবে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে দেশগুলোকে 'প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা' নেওয়ার অনুমোদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জাতিসংঘে চলমান আলোচনার বিষয়ে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক বাণিজ্য সুরক্ষিত রাখা এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বিঘ্ন ঠেকানো।'
এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং রাশিয়া প্রস্তাবটি আটকে দেবে না—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'চীনের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার কথা রয়েছে, এবং বেইজিংও প্রস্তাবটি আটকে দেবে না বলে আশা করা হচ্ছে।'
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের
ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।
মেহের নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, হামলার শিকার যুদ্ধবিমানটির পাইলট গুরুতর আহত হওয়ায় তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এখন পর্যন্ত এই দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি।
আমাজন ক্লাউড সুবিধা রয়েছে এমন অবকাঠামোতে ইরানি হামলার নিন্দা জানাল বাহরাইন
বাহরাইন এই সপ্তাহের শুরুতে একটি অবকাঠামো স্থাপনায় ইরানি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) দাবি অনুযায়ী, এই হামলার লক্ষ্য ছিল আমাজনের একটি ডেটা সেন্টার।
বাহরাইনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলাটি হামালায় অবস্থিত বাহরাইনি টেলিকম কোম্পানি 'বাতিলকো'র সদর দপ্তরে আঘাত হেনেছে। তিনি একে বাহরাইনের 'সার্বভৌম ভূখণ্ড এবং বেসামরিক অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর ও পরিকল্পিত আগ্রাসন' বলে অভিহিত করেছেন।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিএনএন আমাজনের সাথে যোগাযোগ করলেও প্রতিষ্ঠানটি ওই স্থানে তাদের কোনো ডেটা সেন্টার আছে কি না তা নিশ্চিত করেনি। তবে আইআরজিসি আজ আগে জানিয়েছিল যে, সাম্প্রতিক মার্কিন 'গুপ্তহত্যার' প্রতিশোধ নিতে তারা দুই দিন আগে বাহরাইনে একটি আমাজন ক্লাউড কম্পিউটিং সেন্টারে হামলা চালিয়েছে।
বাহরাইনি ওই কর্মকর্তা তেহরানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন যে হামলাটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। তিনি বলেন, আক্রান্ত স্থাপনাটি ছিল বাহরাইনের একটি জাতীয় টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র, যেখানে বাণিজ্যিক ক্লাউড পরিষেবা পরিচালিত হয়।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এই ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোটি পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবসা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের ব্যবহৃত ডিজিটাল পরিষেবাগুলোকে সচল রাখে। ফলে এই হামলা বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংযোগের জন্য একটি বড় হুমকি।
তিনি ইরানের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ভয় দেখানোর এবং আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ব্যাহত করার চেষ্টার অভিযোগ আনেন। বিশেষ করে যেসব দেশের আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব রয়েছে, তাদের নিশানা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই তারা যেন এটি অনুধাবন করে যে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর এই ক্রমবর্ধমান হামলা কেবল উপসাগরীয় স্থিতিশীলতাই নয়, বরং বৈশ্বিক ডিজিটাল নির্ভরশীলতার ভিত্তিকেও হুমকির মুখে ফেলছে।'
তেহরানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা: নিহত ৮, আহত ৯৫
ইরানের রাজধানীর অদূরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তেহরান থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত 'বি১' সেতুতে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এর ফলে তেহরান এবং কারাজ শহরের মধ্যে নির্মাণাধীন একটি প্রধান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সেখানকার এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মধ্যে বিলকান গ্রামের বাসিন্দা, পথচারী এবং 'প্রকৃতি দিবস' উপলক্ষে সপরিবারে ঘুরতে আসা সাধারণ মানুষ রয়েছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ছিল পারস্য নববর্ষ বা নওরোজ উৎসবের শেষ দিন, যা ইরানিরা প্রকৃতি দিবস হিসেবে উদযাপন করেন। প্রথা অনুযায়ী এই দিনে অনেক পরিবার নদী বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানে সপরিবারে সময় কাটাতে ও বনভোজন করতে যান।
বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সংবাদ সংস্থা মিজান দাবি করেছে, এটি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সবথেকে উঁচু সেতু। তেহরান এবং কারাজ শহরের মধ্যবর্তী এক ঘণ্টার যাতায়াত পথ মাত্র ১০ মিনিটে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে এই সেতুটি তৈরি করা হয়েছিল। একে ইরানি প্রকৌশলীদের মেধার এক বড় নিদর্শন হিসেবে দেখা হতো।
এই হামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিএনএন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সিএনএন-কে জানিয়েছে, এই সেতুর ওপর কোনো হামলার বিষয়ে তারা অবগত নয়।
বাহরাইনে অ্যামাজন ক্লাউড ডেটা সেন্টারে হামলার দাবি তেহরানের
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের একটি ক্লাউড কম্পিউটিং সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক 'গুপ্তহত্যার' প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, 'বাহরাইনে অ্যামাজন কোম্পানির ক্লাউড কম্পিউটিং সেন্টারটিতে আক্রমণ চালিয়ে সেটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।' তবে এই দাবির সপক্ষে তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের একজন কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, এই হামলার ঘটনাটি দুই দিন আগে ঘটেছে।
পরবর্তীতে আইআরজিসি আরও জানায়, তারা দুবাইয়ে অবস্থিত ওরাকলের একটি ডেটা সেন্টারকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন।
গত বুধবার তেহরানে এক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কামাল খারাজি গুরুতর আহত হন এবং তার স্ত্রী নিহত হন। ইরানি কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আইআরজিসি চলতি সপ্তাহে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, গুপ্তহত্যা অব্যাহত থাকলে তারা আমেরিকার তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। ইরানের অভিযোগ, এই কোম্পানিগুলো গুপ্তহত্যা কার্যক্রম শনাক্ত এবং দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজে জড়িত।
সপ্তাহের শুরুতে আইআরজিসি যেসব কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছিল, সেই তালিকায় অ্যাপল, মাইক্রোসফট, গুগল, মেটা, আইবিএম, এইচপি, ইন্টেল, টেসলা, বোয়িং এবং জেপি মরগানসহ মোট ১৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আইআরজিসি-র এই দাবি সিএনএন স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে অ্যামাজন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের তাদের কার্যক্রম অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ঘরবাড়ি ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত: রেড ক্রিসেন্ট
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে বিমান হামলায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৩১৬টি স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা (ইএমএস) স্থাপনা, ৭৬৩টি স্কুল এবং রেড ক্রিসেন্টের ১৮টি কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে ৬৯৩টি মিশনে অংশ নিয়েছে প্রশিক্ষিত কুকুর (স্নিফার ডগ)। এসব অভিযানের কিছুতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আহত ব্যক্তি ও মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানায় রেড ক্রিসেন্ট।
তবে এই তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সিএনএন।
এদিকে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও আবাসিক ঘরবাড়িতেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইসরায়েলে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে তারা ইসরায়েলের জাফা এলাকার 'গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু' লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
হুথিরা জানিয়েছে, ইরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনীর সঙ্গে 'যৌথভাবে' এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তারা দাবি করেছে যে, এই হামলায় তাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ইয়েমেন থেকে ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র 'সফলভাবে প্রতিহত' করা হয়েছে।
