যুদ্ধের ‘ফিনিশ লাইন’ দেখতে পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র; ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করা হবে: রুবিও
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার জানিয়েছেন, পাঁচ সপ্তাহে পা রাখা ইরান যুদ্ধের 'সমাপ্তি রেখা' (ফিনিশ লাইন) এখন ওয়াশিংটনের দৃষ্টিসীমায়। তিনি আরও জানান, এই সংঘাত শেষ হওয়ার পর ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।
ফক্স নিউজ চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, 'আমরা যুদ্ধের সমাপ্তি দেখতে পাচ্ছি। এটি আজ বা কাল হবে না, তবে তা খুব কাছাকাছি।'
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আক্রমণ শুরু করার পর এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং যেসব উপসাগরীয় দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে পাল্টা হামলা চালায়।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
রুবিও জানান, বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান চলছে এবং কোনো এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি বলেন, 'বার্তার আদান-প্রদান হচ্ছে এবং আলোচনা চলছে। কোনো এক সময়ে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনাও আছে।'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে সামরিক অভিযান শেষ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের লক্ষ্য ও সময়সীমা বারবার পরিবর্তিত হয়েছে—কখনো ইরান সরকারকে উৎখাত করা, আবার কখনো তাদের সামরিক শক্তি ও আঞ্চলিক প্রভাব কমানোর কথা বলেছেন তিনি।
রুবিও দাবি করেন, বর্তমানে বিশ্বের কোনো দেশ বা কোনো সরকার ইরানকে এমন কোনো সহায়তা করছে না যা যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানে কোনোভাবে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ন্যাটোর সাথে সম্পর্ক নিয়ে রুবিও বলেন, ইরান যুদ্ধের পর ওয়াশিংটনকে অবশ্যই এই জোটের সাথে সম্পর্ক নিয়ে পুনরায় ভাবতে হবে। তিনি বলেন, 'চূড়ান্তভাবে এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টকেই নিতে হবে। তবে আমি মনে করি, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের এটি খতিয়ে দেখতে হবে এই জোটটি দীর্ঘ সময় আমাদের দেশের যে সেবা করেছে, তা এখনো বজায় আছে কি না।'
সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, 'নাকি এটি এখন একমুখী পথে পরিণত হয়েছে, যেখানে আমেরিকা শুধু ইউরোপকে রক্ষা করবে? কিন্তু যখন আমাদের মিত্রদের সহায়তার প্রয়োজন হয়, তখন তারা আমাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অধিকার দেয় না এবং আমাদের ওপর দিয়ে বিমান চলাচলেও বাধা দেয়।'
