ছয় ঘণ্টায় ৫০-এর বেশি পোস্ট, কল্পনানির্ভর মিমে মেতেছেন ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবারের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে বিপুলসংখ্যক মিম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি, রাজনৈতিক আক্রমণাত্মক পোস্ট এবং সমর্থকদের তৈরি প্রশংসাসূচক কনটেন্ট শেয়ার করেছেন৷
দুপুর থেকে শুরু করে ছয় ঘন্টার মধ্যে ট্রাম্প ৫০টিরও বেশি কনটেন্ট শেয়ার বা রিপোস্ট করেন, যার মধ্যে ছিল দেশপ্রেমমূলক কাল্পনিক শিল্পকর্ম, আত্মতুষ্টিমূলক গ্রাফিক্স, অপরাধ সংক্রান্ত মিম, সামরিক চিত্রকল্প, সেলিব্রিটিদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর আক্রমণ।
অদ্ভুত কিছু পোস্টের মধ্যে ছিল ট্রাম্পের ঘোড়ায় চড়ে জর্জ ওয়াশিংটনের পাশে ধুলোমাখা পথ দিয়ে যাওয়ার ছবি, যার পাশে আবার ছিল একটি ন্যাসকার রেস। অন্য একটি ছবিতে গ্রিনল্যান্ডের ওপর ট্রাম্পকে বিশাল অবয়বে দেখা যায়, যেখানে নিচে লেখা ছিল: 'হ্যালো, গ্রিনল্যান্ড!'
ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে গ্রিনল্যান্ড মার্কিন ভূখণ্ড হওয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যাবশ্যক, যদিও গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্কের নেতারা দৃঢ়ভাবে এই ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের যেকোনো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিশেষ একটি অদ্ভুত ছবিতে ট্রাম্পকে একজন সামরিক কমান্ডারের পোশাকে দেখা যায় এবং তার পেছনে আকাশে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হচ্ছে, যার ক্যাপশন ছিল: 'ইউ আর গেটিং ডিসকমববলেটর'। এই পোস্টটি সম্ভবত ট্রাম্পের সেই দাবির প্রতি ইঙ্গিত করে যেখানে তিনি বলেছিলেন যে, 'ডিসকমববলেটর' নামের একটি গোপন মার্কিন অস্ত্র ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে সাহায্য করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও ছিলেন নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু। ট্রাম্প ওবামাকে আক্রমণ করে একাধিক মিম শেয়ার করেন, যার মধ্যে একটিতে ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিকে একটি বিশাল ডাস্টবিন হিসেবে দেখানো হয়েছে। অন্য একটিতে লিঙ্কন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলের সমস্যার জন্য ওবামা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করা হয়েছে।
একটি পোস্টে ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একাধিক ছবি শেয়ার করেন। এর মধ্যে একটি ছবিতে তাদের দুজনকে হ্যান্ডশেক করতে দেখা যায়, যার ক্যাপশনে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত বলরুম নির্মাণে ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতার জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে। ট্রাম্প বেইজিংয়ের বিশাল 'গ্রেট হল অফ দ্য পিপল'-কে একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন এবং বিশ্বাস করেন হোয়াইট হাউসেও এমন একটি বিশাল ভেন্যু থাকা উচিত।
হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইং-এ ৪০০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ চলছে, যাকে ট্রাম্প 'যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি উপহার' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্প এখন এও দাবি করছেন যে এই বলরুমের নিচে একটি বিশাল গোপন বাঙ্কার কমপ্লেক্স থাকবে, যেখানে সামরিক হাসপাতাল, মিটিং রুম এবং অতি গোপনীয় গবেষণা সুবিধা থাকবে।
শনিবার শেয়ার করা আরেকটি ছবিতে তার সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন দেখা যায়, যেখানে হোয়াইট হাউসের ছাদের ওপর একটি ভবিষ্যৎমুখী 'ড্রোনপোর্ট' এবং ওপর দিয়ে প্লেন উড়তে দেখা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে এই পোস্টগুলো ট্রাম্পের মনোযোগ শনিবারে কোন বিষয়গুলোতে ছিল তার একটি চিত্র তুলে ধরে: গ্রিনল্যান্ড, রোজি ও'ডোনেল, সামরিক শক্তি, ড্রোন এবং তিনি নিজে।
