মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানকে চিপ তৈরি প্রযুক্তি দিচ্ছে চীন: অভিযোগ ওয়াশিংটনের
চীনের বৃহত্তম চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন (এসএমআইসি) ইরানের সামরিক বাহিনীকে চিপ তৈরির সরঞ্জাম পাঠিয়েছে—বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসনের দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। মাসব্যাপী চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে বেইজিংয়ের অবস্থান নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এসএমআইসি (০৯৮১.এইচকে) ইতোমধ্যে মার্কিন সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে।
একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় এক বছর আগে ইরানকে এই সরঞ্জামগুলো পাঠানো শুরু করেছিল এবং 'আমাদের কাছে এমন কোনো কারণ নেই যা থেকে মনে হতে পারে যে এই সরবরাহ বন্ধ হয়েছে।'
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই সহযোগিতার মধ্যে 'নিশ্চিতভাবেই এসএমআইসি-র সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ওপর কারিগরি প্রশিক্ষণও অন্তর্ভুক্ত ছিল।'
মার্কিন সরকারের অপ্রকাশিত তথ্য নিয়ে আলোচনার জন্য কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন। তবে সরঞ্জামগুলো মার্কিন উৎপাদিত কি না, তা তারা স্পষ্ট করেননি। যদি এসব সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হয়ে থাকে, তবে ইরানে পাঠানোটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হতে পারে। এই বিষয়ে এসএমআইসি, ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এবং জাতিসংঘে ইরানি মিশনের মুখপাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চীনা সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা ইরানের সাথে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক লেনদেন বজায় রেখেছে।
২০২০ সালে মার্কিন রপ্তানি বাণিজ্যের কালো তালিকায় যুক্ত হওয়া এসএমআইসি চীনা সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের সাথে তাদের সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চীন এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো পক্ষ নেয়নি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই চলতি সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব শান্তি আলোচনা শুরু করার সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এই অভিযোগগুলো ওয়াশিংটন এবং বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলার হুমকি দিচ্ছে। কারণ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে, অন্যদিকে তারা চীনের উন্নত চিপ শিল্পকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করছে।
রয়টার্স গত মাসে রিপোর্ট করেছিল যে, ইরান চীনের কাছ থেকে জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ মিসাইল কেনার একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি ছিল; ঠিক সেই সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলে বিশাল নৌবাহিনী মোতায়েন করেছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বিশ্ব আর্থিক বাজারকে অস্থির করে তুলেছে, তেলের দাম বাড়িয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এই যুদ্ধে ইরানের সামরিক সক্ষমতায় এই চিপ তৈরির সরঞ্জামগুলো ঠিক কী ভূমিকা পালন করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরঞ্জামগুলো ইরানের 'সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স'-কে দেওয়া হয়েছে এবং চিপ প্রয়োজন এমন যেকোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে এগুলো ব্যবহৃত হতে পারে।
ওয়াশিংটন এসএমআইসি এবং অন্যান্য চীনা চিপ নির্মাতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর তৈরির সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ল্যাম রিসার্চ, কেএলএ এবং অ্যাপ্লাইড মেটেরিয়ালসের মতো শীর্ষ মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছ থেকে উন্নত সরঞ্জাম পাওয়ার সুযোগ সীমিত করাই তাদের লক্ষ্য।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে হুয়াওয়ের 'মেট ৬০ প্রো' ফোনের জন্য একটি উন্নত চিপ তৈরি করার পর বাইডেন প্রশাসন এসএমআইসি-র ওপর কড়াকড়ি আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
