ফরিদপুরে দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ: ১০ বছর পর দেশে ফিরেও বাড়ি ফেরা হলো না আরিফুলের
মালয়েশিয়া থেকে ১০ বছর পর দেশে ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন আরিফুল ইসলাম। কিন্তু আর ঘরে ফেরা হলো না তার। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় আরিফুলসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।
মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফুল ইসলাম (২৫), তার মা নুরজাহান বেগম (৫০), বোন আয়েশা আক্তার (২৮), ভাই আরিফ হোসেন (১৮) এবং প্রাইভেটকারচালক জাহিদ হোসেন। জাহিদ মনিরামপুর উপজেলার গৌরপুর গ্রামের মো. ইসলামের ছেলে।
আহতরা হলেন- আশরাফুল হোসেন (৮) ও তাসফিয়া (৩)। তারা নিহত আয়েশা আক্তারের সন্তান। আহতরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জানা যায়, তারা সবাই সোমবার (১ জুন) যশোর থেকে ঢাকার বিমানবন্দরে মালয়েশিয়া থেকে ফেরা আরিফুলকে আনতে গিয়েছিলেন।
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লাশ নিতে আসা পরিবারের স্বজন ইলিয়াস জানান, আরিফুল দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় ছিলেন। সোমবার রাতে দেশে ফেরার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তাদের বহনকারী প্রাইভেটকারটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।
তিনি বলেন, 'পরিবারের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। এই মুহূর্তে তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়।'
পুলিশ জানায়, ভোরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম আন্ডারপাসের কিছুটা আগে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয় প্রাইভেটকারটি। এতে ঘটনাস্থলেই চালকসহ চারজন নিহত হন এবং আহত হন আরও তিনজন। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে রাকিবুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবির জানান, 'একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।'
শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, 'দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চারজনের মরদেহ এবং তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা যশোরে পৌঁছানোর পর বিকেলে তাদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।'
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু জাফর বলেন, 'ভোররাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাইভেটকার কেটে লাশগুলো বের করা হয়। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। বাকি তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।'
