‘৪ মানদণ্ড পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প নয়, এটি জনগণের ট্যাক্সের টাকা’: অর্থমন্ত্রী
'ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশগত বিবেচনা'—এই চার মানদণ্ড পূরণ না হলে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে 'স্টেপিং ফরোয়ার্ড: দ্য ইনাগুরেশন অব রেইজ-২' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনা কমিশনে থাকা প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রকল্পের অনেকগুলোরই জনস্বার্থে কার্যকর মূল্য নেই। এ কারণে সেগুলো বাদ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সরকার বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পরিবর্তে সামাজিক খাত, কর্মসংস্থান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি বলেন, 'যে প্রকল্প এই মানদণ্ড পূরণ করবে না, সেই প্রকল্প আমরা করব না। কারণ এটা সরকারের টাকা না, এটা বাংলাদেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকা।'
অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলেই হবে না, অর্থনীতিকেও গণতান্ত্রিক করতে হবে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে এবং আগামী বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যাবে।
স্বাস্থ্য খাতে মানুষের নিজস্ব ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের 'আউট অব পকেট' স্বাস্থ্য ব্যয় আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি, যা লজ্জাজনক। এ কারণে সরকার প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তিনি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও গ্রামীণ কুটির শিল্পের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। কামার, কুমার, তাঁতি ও হস্তশিল্প খাতের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন সহায়তা, ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকার 'ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট' ধারণা নিয়ে কাজ করতে চায়, যাতে একটি গ্রামের মানুষ নির্দিষ্ট একটি পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে সংগঠিতভাবে বাজারে প্রবেশ করতে পারে।
বিশ্বব্যাংক ও পিকেএসএফের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত 'রেইজ' প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে নতুন করে ২ লাখ তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে দক্ষতা উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে ১ হাজার ৬০০ নারীকে 'হোম-বেজড চাইল্ডকেয়ার' উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের আওতায় সরাসরি উপকৃত হবেন ৪ লাখ ২৩ হাজার ১০০ জন। দ্বিতীয় পর্যায়ে চর, হাওর, পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকার তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া দলিত, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী তরুণদের অন্তর্ভুক্তিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
