নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দলের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে 'নতুন যুদ্ধ' শুরু করার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, নেতা-কর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থন ছাড়া তার সরকারের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়।
গতকাল শনিবার রাজধানীতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি ও এর তিনটি অঙ্গ-সংগঠনের জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। কী সেই যুদ্ধ? সেই যুদ্ধটি হচ্ছে আমরা মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন করা।'
গতকাল সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শুরু হয় এই মতবিনিময় সভা। ইউএনবি জানিয়েছে, দিনব্যাপী এ আলোচনায় সরকারের প্রথম ৮০ দিনের কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। একইসঙ্গে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনাও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
এসব বিষয়ে জনগণের মাঝে যাতে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে পড়ে, সেজন্য সরকারের ৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও পরিকল্পনা জনগণের কাছে তুলে ধরার পরামর্শ দেওয়া হয় বৈঠকে। এ মতবিনিময় সভায় ৯০০-র বেশি নেতা অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা সুশাসন নিশ্চিত করবে; শিক্ষার্থীদের জযন সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করবে এবং নারী-পুরুষ-শিশু সবাই নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা বলেছিলাম যে আমাদের ওপরে যেরকম অত্যাচারনির্যাতন হচ্ছে, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা যেমন গুম-খুনের শিকার হচ্ছে, আমরা চাই দেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতি হোক যেখানে আমরা বিতর্ক করব, কথা বলব, কিন্তু এরকম পরিস্থিতি আমরা তৈরি হতে দেব না।'
দলের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এটি কেবল বিএনপির ইশতেহার ছিল, কিন্তু দল সরকার গঠনের পর এটি এখন দেশের জনগণ ও সরকারের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, 'ভোটাধিকার প্রয়োগকারী ৫২ শতাংশ মানুষ এই ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কাজেই ইশতেহারে আমরা যা যা বলেছি, তা বাস্তবায়ন করার জন্য এখন সর্বশক্তি দিয়ে সরকারকে চেষ্টা করতে হবে।'
প্রধানমন্ত্রী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দলের নেতা-কর্মীদের সরকারের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আমরা একে বিএনপির সরকার বলি। কিন্তু বিএনপি যদি সহযোগিতা না করে, অনেক ক্ষেত্রে সরকার সফল হতে পারবে না।'
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সাফল্য নির্ভর করছে এই বৈঠকে উপস্থিত নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন পর্যায়ে দলের নেতৃত্বদানকারীদের ওপর। তিনি মনে করেন, তারা যদি সরকারের পেছনে ঐক্যবদ্ধভাবে না দাঁড়ান, তবে সরকারকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। এ কারণেই তিনি উপস্থিত সব নেতার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতা টিবিএসকে বলেন, আলোচনায় সরকারের নানা কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। তারা আরও বলেন, সরকারের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে তাদের মাঝেও কিছুটা অস্পষ্টতা ছিল। বৈঠকে এসব বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে।
ওই নেতারা বলেন, বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তাবায়নের কথাও বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে জনগণের কাছে তুলে ধরতে বলা হয়েছে। কারণ জনগণকে নানা বিষয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলে মনে করছে দল।
এছাড়াও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়েও কথা হয়েছে বৈঠকে। দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান এবং এজেডএম জাহিদ হোসেন সভায় উপস্থিত ছিলেন।
