শপথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি শপথ গ্রহণ করেছেন।
আজ বুধবার (৬ মে) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় স্পিকারের কার্যালয়ে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮-এর তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৫ অনুযায়ী স্পিকার নবনির্বাচিত সদস্যকে শপথ পাঠ করান।
শপথ শেষে তিনি রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
শপথ অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলের চিফ হুইপ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত ঘোষণা করে ৪ মে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিব কে এম আলী নওয়াজের সই করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত করে গেজেট প্রকাশের বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে কোনো সময় গেজেট প্রকাশ হতে পারে।
ইসির সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমেকে বলেন, 'আদালতের আদেশে নুসরাতের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারও করেননি তিনি। আইন অনুযায়ী, আমরা তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট করার সিদ্ধান্ত দিয়েছি।'
উল্লেখ্য, সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে মোট ৫০টি। এর মধ্যে ৪৯ জন সদস্য গতকাল রোববার শপথ নিয়েছেন। বর্তমান সংসদের আসনবিন্যাস অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত জোট ১৩টি নারী আসন পায়। জোটের ১২ জন প্রার্থী গতকাল শপথ নিলেও বাকি একটি আসন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। জোটের অন্যতম প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন বাছাইয়ের সময় বাতিল হয়ে যায়।
অন্যদিকে নুসরাত তাবাসসুম নির্ধারিত সময়ের পরে আবেদন করায় শুরুতে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশে কমিশন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে এবং বাছাই শেষে তা বৈধ বলে গণ্য হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল ইসি।
