সংবিধানের ধারাবাহিকতার নামে আ.লীগের রাজনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার দরজা খোলা রাখা হচ্ছে: নাহিদ
৭২-এর সংবিধানের ধারাবাহিকতার নামে দেশে আওয়ামী লীগের আদর্শ ও রাজনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার বা বারবার ফিরে আসার দরজা খোলা রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, '৭২-এর সংবিধানের এই ধারাবাহিকতার নামে আওয়ামী লীগের যে আদর্শ, আওয়ামী লীগের যে রাজনীতি, সেই রাজনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা বা বারবার ফিরে আসার একটি দরজা সবসময় খোলা রাখা হচ্ছে। বিএনপি এবার বুঝে হোক বা না বুঝে হোক, এই কাজটি করছে। এই কারণে আমরা বলেছি, টেকসই সংস্কার ও নতুন যাত্রার জন্য আমাদের সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ প্রয়োজন।'
রবিবার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত 'জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট' শীর্ষক দিনব্যাপী জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন।
চার পর্বের দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের শেষ সেশনের শিরোনাম ছিল 'গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে জুলাই সনদ, সংস্কার ও গণভোট'।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম মিয়া পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, '৫৪ বছর ধরে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য আমাদের লড়াই করে যেতে হচ্ছে। এর জন্য বারবার আমরা জীবন দিয়ে যাচ্ছি। বারবারই নানান শক্তির বাধায় হোঁচট খাচ্ছি।'
তিনি বলেন, যারা সংস্কারের জন্য গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দিয়েছে, তারা এই ভোটের প্রতিফলন দেখতে চায়। তারা যদি প্রতিফলন না দেখে, তাহলে ঘরে বসে থাকবে। জনগণ সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছে।
প্রথম অধিবেশনকে সরকার ব্যর্থ করেছে—মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'এই অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের আলোচনা করার কথা ছিল। সবকিছু বাদ দিয়ে সরকার তার মতো করে সংবিধান ও সংসদ পরিচালনা করেছে। এটা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে রাজপথই জনগণের একমাত্র রাস্তা হয়ে দাঁড়াবে।'
তার আগেই সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
নাহিদ বলেন, 'আমরা বলেছি, উচ্চকক্ষ লাগবে। কারণ বাংলাদেশে যেকোনো সরকার ক্ষমতায় এলে সংবিধান নিজের মতো সংশোধন করে নেয়। ফলে একটা ভারসাম্য দরকার।'
তিনি বলেন, 'সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেন একটি গণভোটের ব্যবস্থা থাকে। আমরা বলেছি, যেন সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ না হয়, নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একক হাতে না থাকে। সর্বদলের সম্মতিতে গ্রহণযোগ্যভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেন প্রতিষ্ঠা হয়, বিচার বিভাগের পৃথকীকরকণ হয়। এগুলো দিয়েই যে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে, তা নয়। তবে আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই।'
সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, 'আমরা সাংবিধানিক সংস্কারের কথা বলেছি। সংশোধনের মাধ্যমে এটা টেকসই হবে না। বিএনপি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করতে চাইলে সেটি টেকসই হবে না, যেকোনো সময় এটা বাতিল হতে পারে। আমি সংসদে বলেছি, জিয়াউর রহমান এই ঐতিহাসিক ভুল করেছিল।'
