চট্টগ্রামে অকটেনের চাহিদা দ্বিগুণ, পাম্পে দীর্ঘ সারি; গ্রামে সংকট আরও প্রকট
চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর এলাকার ফসিল পেট্রোল পাম্পে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি হতো। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জ্বালানিটির চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে ডিলার থেকে পাম্পে তেল আনার একদিনের মাথায় ৬ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা তৈরি হচ্ছে।
গত বছরের মার্চ মাসে পাম্পটি ডিজেল ও অকটেন মিলিয়ে ১৮ গাড়ি তেল পেয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসেও তারা সমপরিমাণ তেল বরাদ্দ পেয়েছে। তবে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে গতকালই (২৮ মার্চ) তাদের অকটেনের মজুদ শেষ হয়ে গেছে। মাসের বাকি দিনগুলোর জন্য ডিলার থেকে নতুন করে অকটেন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, যদিও পাম্পে এখনো ডিজেল মজুদ রয়েছে। ফলে যতক্ষণ অকটেন থাকছে ততক্ষণ বিক্রি করা সম্ভব হলেও, পরে গ্রাহকদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে যেসব স্টেশনে অকটেন পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ মঈন উদ্দিন ফিলিং স্টেশনে স্বাভাবিক সময়ে অকটেন বিক্রি হতো ৮০০ থেকেে এক হাজার লিটার। অথচ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা শুরুর পর সেখানে চাহিদা বেড়েছে চার গুণ। এখন ডিলার থেকে সরবরাহ পাওয়ার একদিনেই ৪ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা দেখা দিচ্ছে।
স্টেশন মালিকরা জানান, জ্বালানি বিক্রি করাই তাদের মূল কাজ, কিন্তু অতিরিক্ত চাপের মুখে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। মূলত ডিলার কোম্পানিগুলো আগের বছরের ডেটার ভিত্তিতে 'রেশনিং' পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করছে। ফলে বাজারে চাহিদা বাড়লেও অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের কোনো সুযোগ থাকছে না।
মালিকদের দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে তেল মজুদের অতি উৎসাহী মনোভাবই এই কৃত্রিম সংকটের মূল কারণ। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কয়েক দফায় তেল সংগ্রহ করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন তারা।
তবে চালকদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, পাম্পগুলো সঠিক সময়ে ও পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল ছাড়ছে না বলেই এই চাপের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া অনেক জায়গায় অবৈধভাবে তেল মজুদ করে রাখায় ভোক্তা পর্যায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
রাউজানের বাসিন্দা আইয়ুব খান মুঠোফোনে টিবিএসকে বলেন, 'আমাদের আশেপাশে বাইকের পাম্প স্টেশন নেই। এখানে কিছু দোকান আছে তারা সবসময় তেল বিক্রি করে, আমরা সেখান থেকে তেল কিনে থাকি। গত ৩ দিন ঘুরেও বাইকের জন্য তেল পাইনি। আর যুদ্ধের খবরের পর থেকে লিটার প্রতি তেল ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।'
ফসিল পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার মো. ফখরুদ্দীন ইসলাম শিমুল টিবিএসকে বলেন, 'কাস্টমার আসলে তো আমাদের খুশি হবার কথা। তবে অনেকেই অতি উৎসাহী হয়ে প্রয়োজন না হলেও তেল সংগ্রহ করছে যা পাম্পে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।'
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্ট ও পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদস্যসচিব মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন টিবিএসকে বলেন, 'চট্টগ্রামের অধিকাংশ পাম্পে এখন ট্যাগ অফিসার আছেন। তারা তো দেখছেন আমরা তেল দিচ্ছি কী দিচ্ছি না। তেল নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তারা আবারও লাইনে দাঁড়িয়ে আছে তেলের জন্য। শত শত গাড়ি লাইনে কর্মচারীরা কয়জনকে মনে রাখবে। আর তেল না দিলে তাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রশাসনের তদারকি জরুরি।'
